দেশে গ্যাস ও এলপিজি সংকটের মধ্যেই রাজধানীর এক বড় অংশে নতুন করে গ্যাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তুরাগ নদের তলদেশে একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে, এমনকি কোথাও একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার, যখন একটি মালবাহী ট্রলার সেটির উপর দিয়ে গিয়েছে। পরে মেরামতের সময় পাইপে পানি প্রবেশ করার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে উত্তরা, মিরপুর, টঙ্গী, পল্লবী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিপাকে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। Mohammদপুরের বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন,
“বাসায় গ্যাস নেই। এলপিজি সিলিন্ডারও বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই রান্না বন্ধ। বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।”
মিরপুর সাড়ে ১১-এর বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের কথায়,
“দুইজনই কর্মজীবী। ভোরে রান্না করে অফিসে যাই। কিন্তু গত কয়েকদিন গ্যাস সংকট থাকায় চুলাই জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছি, অনেক সময় লাগে।”
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) জানিয়েছে, 50 পিএসআই চাপের পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়েছে, তবে মেরামতের সময় পাইপে পানি প্রবেশ করার কারণে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহে স্বল্পচাপ তৈরি হয়েছে।
এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ বণিক জানান,
“তুরাগ নদের তলদেশে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মেরামত হয়েছে, কিন্তু পানি ঢুকে পড়েছে মোহাম্মদপুরের বড় অংশে। আমাদের কর্মীরা পানি বের করার কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুইদিন সময় লাগতে পারে। পানির কারণে গ্যাসের প্রেসার কম রয়েছে।”
তিতাসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ করতে চাহিদা রয়েছে ২,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু বর্তমানে পাচ্ছে ১,৫০০-১,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শীতের কারণে চাপ কম থাকার বিষয়টিও সমস্যা বাড়াচ্ছে।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ গ্যাস সরবরাহ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কয়েক মাস আগেও সরবরাহ ছিল প্রায় ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, তবে গত বৃহস্পতিবার নেমেছে ২,৫৭৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। স্থানীয় সরবরাহ কমছে, কিন্তু এলএনজি সংকট নেই, তাই রাজধানীতে তীব্র স্বল্পচাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা প্রচুর পুরোনো অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের অভাবে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি বিকল্প পাইপলাইন না থাকায় একটি লাইনে সমস্যা হলেই শহরের বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
তুরাগ নদের তলদেশে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে রাজধানীর আবাসিক ভবন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ছোট কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হঠাৎ গ্যাসহীন হয়ে গেছে। কোথাও গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকায় রান্নায় সময় কয়েক গুণ বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলপিজি ব্যবহার করলেও দাম আগের থেকেও বেশি হওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে।

