Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, এপ্রিল 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » যে নির্বাচনে সবাই ভুল প্রমাণিত হয়েছিল
    বাংলাদেশ

    যে নির্বাচনে সবাই ভুল প্রমাণিত হয়েছিল

    হাসিব উজ জামানজানুয়ারি 20, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা এখনো দেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় একটি বিস্ময় হিসেবেই অনেকের কাছে বিবেচিত, কারণ ওই নির্বাচনের আগে এই ধারণাই বেশি প্রকাশ পাচ্ছিলো যে–– আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

    কারও কারও মতে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার দলত্যাগের কারণে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ছিল দুর্বল, সে তুলনায় আওয়ামী লীগ তখন সাংগঠনিকভাবে শক্তিধর ছিল। এ সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে ওই নির্বাচনে যেভাবে বিএনপি পরাজিত করেছিলো, তা দেশের রাজনীতির গতিধারাই পাল্টে দিয়েছিল।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে এক জনসভায় খালেদা জিয়া, পেছনে তারেক রহমানকে দেখা যাচ্ছে

    এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে কার্যত দ্বি-দলীয় রাজনীতির সূচনা হয়, পাশাপাশি ওই সংসদের মাধ্যমেই বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

    আবার সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার যে ধারণা- তারও আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ হয়েছিলো ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনেই।

    সেই ভোটে বিএনপির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন নেতা বলছিলেন, নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দুই নেত্রী- শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দেওয়া ভাষণের পরপরই তারা আঁচ করতে পারছিলেন যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বিএনপির অনুকূলে আসছে।

    বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন যে, ওই ভাষণ ছাড়াও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলটির নেতাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে নিজেদের বড়াই বা দম্ভের বহিঃপ্রকাশ বিএনপিকে সুবিধা করে দিয়েছিল।

    এছাড়া তখনকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীনতার ভাবমূর্তি’ই ওই নির্বাচনে দলটির বিস্ময়কর সাফল্যের মূল কারণ বলে তারা মনে করেন।

    প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল। আর আওয়ামী লীগকে ৮৪টি আসন নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছিল।

    এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে ওই নির্বাচনে।

    পরে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার জনসভা

    বিএনপি জয় আঁচ করতে পেরেছিলো?

    বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এটা বিশ্বাস করা অনেকটা কঠিন ছিল যে আওয়ামী লীগ হারিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে।

    মূলত এর আগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নয় বছরে দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় সাংগঠনিক অবস্থা ছিল খুবই নড়বড়ে।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, তখন তার কাছে মনে হয়েছিলো–– বিএনপি নেতারা বরং বিশ্বাস করছিলেন যে তারা শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলেই বসতে যাচ্ছেন।

    “আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক বিস্তৃত ছিল। আর জেনারেল এরশাদ তার নয় বছরে বারবার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করেছেন। অনেক নেতাকে ভাগিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে বিএনপি আসলে অনেক জায়গায় প্রার্থীও ঠিকমতো দিতে পারেনি সেই নির্বাচনে। এসব কারণেই সবার মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আওয়ামী লীগই জিতবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

    ওই নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ১৪০টি নির্বাচনী আসনের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলটির এখনকার স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ওই নির্বাচনের পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হওয়া মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

    পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় তারা কোনোভাবে আঁচ করতে পেরেছিলেন কি-না কিংবা নির্বাচনের ফল দলের জন্য আসলেই বিস্ময় ছিল কি-না -এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রায় বলেছেন, তারা নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে ‘ভালো বাতাস’ পাচ্ছিলেন।

    “অনেকের কাছে বিস্ময়কর ফল মনে হলেও আমরা যারা আসনভিত্তিক কাজ করছিলাম তারা কিছুটা উপলব্ধি করছিলাম যে পরিস্থিতি অনুকূল হচ্ছে। রেডিও টিভিতে দুই নেত্রীর ভাষণের পর ঢাকায় মূলত আওয়ামী লীগ উড়ে গিয়েছিল,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকে বলে থাকেন যে, সেবার নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও আট দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বেশ সমালোচিত হয়েছিলো। বরং সেই তুলনায় বিএনপি ও সাত দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাষণ প্রশংসিত হচ্ছিলো।

    সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু অবশ্য বলছিলেন, তখন রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকসহ সবার ধারণা ছিল শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই জিতবে।

    “মনে হচ্ছিলো আওয়ামী লীগই জিতবে। আসলে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব তখন কেউ সেভাবে আঁচ করতে পারেনি। পরে অনেক বিশ্লেষণেই বিএনপির জয়ের কারণগুলো উঠে এসেছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

    নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার একটি সমাবেশের দেওয়া বক্তব্য, দৈনিক ইত্তেফাকের খবর ছিল এটি

    বিএনপির জয়ের ফ্যাক্টরগুলো কী ছিল

    বিশ্লেষক ও রাজনীতিক সবাই মানছেন যে, পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ছিল দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যা একটি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    নির্বাচনের সময় তখন ইত্তেফাকের একটি সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, “এবারের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য এই যে -এই প্রথম এদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতেছে এবং আশা করা চলে যে, ভোটাররা নির্ভয়ে-নিরুপদ্রবে নিজ ইচ্ছামত প্রার্থী বাছাইয়ে তাহাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করিবেন”।

    আর নির্বাচনের পর দোসরা মার্চ দৈনিক সংবাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিলো, “নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বহু আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ যাবত তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে এ ধরনের অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”।

    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, আসলে ঠিকমতো সুযোগ পেলে মানুষ নিজের অজান্তেও সঠিক রায় দেয় এবং ১৯৯১ সালে ঠিক তা-ই ঘটেছিলো বলে তারা মনে করেন।

    “এখানে বড় ফ্যাক্টর ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলন খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকায় তৈরি হওয়া জনপ্রিয়তা আর শেখ হাসিনার দাম্ভিকতাপূর্ণ বক্তব্য,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

    মি. রায় জানান, নির্বাচনের চার দিন আগে ঘরোয়া এক বৈঠকে তারা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কথা বলেছিলেন মিসেস জিয়ার সাথে, তিনি সবাইকে আরও পরিশ্রম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

    এছাড়া বিশ্লেষকদের মতে, সেবার নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তৃতার ভাষা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছিলো। এর বিপরীতে খালেদা জিয়া মূলত ভারতবিরোধী বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    দৈনিক ইত্তেফাক তার একটি বক্তব্যের শিরোনাম করেছিলো, “বাংলাদেশকে বিদেশীদের গোলামীর চুক্তিতে আবদ্ধ করিতে না চাহিলে ধানের শীষে ভোট দিন”।

    গয়েশ্বর রায় দাবি করছেন, শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর ঢাকার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো।

    এছাড়া সেসময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এমন কেউ কেউ মনে করেন, ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ কিছু দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগেরই একটি প্রভাবশালী অংশ অবস্থান নেওয়ার প্রভাবও পড়েছিলো পুরো নির্বাচনী ফলাফলে।

    খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

    “আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা শুনে তখন মনে হতো যে তারা ক্ষমতায় এসে পড়েছে। এটি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি,” বলছিলেন মি. রায়।

    ১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনার একটি আসন থেকে জিতেছিলেন নূরুল ইসলাম মনি। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

    “তখন যারা মোটামুটি বয়স্ক ভোটার তাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। আবার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাকে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় করেছিলো। এছাড়া নির্বাচনে আগে শেখ হাসিনার কথাবার্তাও সমালোচিত ছিল। আমার মনে হয় বিএনপির বিস্ময়কর জয়ের কারণ এগুলোই,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

    শেখ হাসিনার ভাষণে কী ছিল

    ১৯৯১ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জনসভা করে শেষ নির্বাচনী দেওয়ার পাশাপাশি রেডিও টেলিভিশনেও ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। দুই নেত্রীর দুটি করে ভাষণই পরদিন সংবাদপত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

    শেখ হাসিনা তার ৫০ মিনিটের ভাষণের অধিকাংশ সময়জুড়েই দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করেন।

    ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “জেনারেল জিয়া রেডিও টিভি ভাষণে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে সেনা ছাউনিতে ফিরে যাওয়ার ওয়াদা ভঙ্গ করে প্রথমে জাগদল, এরপর ফ্রন্ট, অতপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং সবশেষে বিএনপি গঠন করেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনদল, ফ্রন্ট, ১৮ দফা বাস্তবায়ন কমিটি ও জাতীয় পার্টি গঠন করেন”।

    ওই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে পরবর্তী জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলের তুলনামূলক চিত্র বর্ণনা করে ওই দুই শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন।

    মূলত প্রতিপক্ষকে তীব্রভাবে আক্রমণ আর স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলত্রুটি এড়িয়ে যাওয়া ছাড়াও শেখ হাসিনার বলার ভঙ্গি নিয়ে তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়।

    অন্যদিকে খালেদা জিয়ার ভাষণে স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনামলের তুমুল সমালোচনার পাশাপাশি তিনি বা তার দল সরকার গঠন করলে কী কী করবেন তার কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছিলেন।

    মিসেস জিয়া তার ভাষণের একাংশে আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, “সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো মানুষ ভুলতে পারে না। এই অত্যাচার, অবিচার, অপশাসনের পটভূমিতেই জাতীয়তাবাদী দলের উত্থান”।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার চেয়ে খালেদা জিয়ার ভাষণের টোন বা কথা বলার ভঙ্গীতে ভোটের একটি আকুতি প্রকাশ পেয়েছিল, যা তখন অনেক ভোটারকে প্রভাবিত করতে পেরেছিল বলে তারা মনে করেন।

    আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া, সরকার গঠন

    নির্বাচনের রাতে যখন বিএনপির জয় অনেকটাই নিশ্চিত, তখন আওয়ামী লীগসহ অনেকের মধ্যেই ছিল বিস্ময়।

    শেখ হাসিনা পরে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন, যা অনেকদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা কুড়িয়েছে।

    “ভোটাররা আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু চিহ্নিত অগণতান্ত্রিক শক্তি সূক্ষ্ম কারচুপি, কালো টাকা, সন্ত্রাস এবং এক অদৃশ্য শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে ভোটের রায়ের ফল পাওয়া থেকে ভোটারদের বঞ্চিত করেছে,” শেখ হাসিনা বলেছিলেন।

    নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি, যদিও তার দলের নেতাকর্মীদের চাপেই আবার পদত্যাগ থেকে বিরত থাকেন।

    কিন্তু আওয়ামী লীগের বিপর্যয় নিয়ে তখন দলটির নেতা ড. কামাল হোসেন দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “অতি আত্মবিশ্বাস, আত্মম্ভরিতা এবং কর্মবিমুখতার কারণেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে”।

    “২৭শে ফেব্রুয়ারির অনেক আগেই আমরা আমাদের বিজয় সম্পর্কে অতিমাত্রায় বিশ্বাসী হইয়া উঠি। নির্বাচনকে আমরা আনুষ্ঠানিকতা ও সময়ের ব্যাপার হিসেবে ধরিয়া নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা নিশ্চিত বিজয়ের আগাম পর্বে মাতোয়ারা হইয়া উঠে,” মি. হোসেন তার চিঠিতে লিখেছিলেন।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির এগিয়ে থাকার খবর দৈনিক ইত্তেফাকের পাতায়
    ছবির ক্যাপশান,১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয় এখনো অনেকের কাছে ‘বিস্ময়’

    ওদিকে নির্বাচনের পর ১৯ মার্চ তখনকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। একই সঙ্গে ১০ জন মন্ত্রী ও ২১ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদও গঠন করা হয়। ২০শে মার্চ খালেদা জিয়া শপথ গ্রহণ করেন।

    এরপর দৈনিক সংবাদ ২২শে মার্চ সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করে, “…স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদলগুলো অবাধ নির্বাচনের পথ খুলে দিয়েছে। তারই পরিণতিতে এই প্রথমবারের মতো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক বিধিমতে মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে দেশ আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে”।

    বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন যে, “মূলত খালেদা জিয়ার ক্যারিশমা আর শেখ হাসিনার দুর্বিনীত উক্তির কারণেই বিশাল সংখ্যা সুইং ভোটারদের ভোট বিএনপি পেয়েছে, যা আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত করেছে। আর ওই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনীতির সূচনা হয়েছিল, যা আগে ছিল না”।

    প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনের আগে সবগুলো জাতীয় নির্বাচনই ক্ষমতাসীন দল সরকারে থেকে নির্বাচন করেছে। প্রতিটি নির্বাচনেই ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিলো।

    “স্বাধীন বাংলাদেশের চারটি নির্বাচন হয়েছিলো। ওই নির্বাচনগুলোর বৈশিষ্ট্যই ছিল যে সবসময় ক্ষমতাসীন দল জয়ী হয়েছে। ক্ষমতায় বসে দল বানিয়ে তারা জিতেছিল। ৯১ সালে নতুন অভিজ্ঞতা হলো- ক্ষমতায় ছিল নির্দলীয় সরকার,” বলছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।

    তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়া হত্যাকাণ্ড হলো এবং এরপর খালেদা জিয়ার ভূমিকা বিএনপির জয়ে ভূমিকা রেখেছে।

    “সেই তুলনায় আওয়ামী লীগের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ছিল জনমনে। তারা এরশাদের অধীনে নির্বাচন করেছিলো। ফলে সবাই আওয়ামী লীগকে জয়ী ভাবলেও জনমনে ভিন্ন চিন্তাই বিস্তৃত হয়েছিল তখন, যার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে নির্বাচনের ফলে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

    সূত্র: বিবিসি

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    জ্বালানি সংকটে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই বন্ধ মার্কেট

    এপ্রিল 3, 2026
    বাংলাদেশ

    হরমুজ সংকট এড়াতে বিকল্প পথে তেল আনছে বাংলাদেশ

    এপ্রিল 2, 2026
    বাংলাদেশ

    সরকারি দাম ১৭২৮, বাজারে এলপিজি ২১০০ টাকায়

    এপ্রিল 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.