চব্বিশের অভ্যুত্থান দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিচার শুরু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশনের প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে গ্রেপ্তার পলককে আদালতে হাজির করা হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার বিচার কার্যক্রম তার অনুপস্থিতিতেও চলবে।
পলকের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। জয়ের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং অব্যাহতির আবেদনের শুনানি নাকচ করে।
গেল ১১ জানুয়ারি প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন। সেই সময় তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয় এবং বিচার শুরু করার আবেদন করেন।
মামলার তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে
জয়ের ‘নির্দেশে’ ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে পলক ফেইসবুকে উসকানি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ‘সশস্ত্র বাহিনী’ হামলা চালায়।
আসামিরা ইন্টারনেট বন্ধ করে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা’ দেন। এছাড়া আসামিরা হত্যায় সহায়তা করেন। পুলিশের এবং দলীয় ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর’ হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহীদ হন। তিন নম্বর অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা উত্তরায় ৩৪টি হত্যায় সহায়তা করেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণ করে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালত গ্রহণ করে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আসে গত ১৭ নভেম্বর। সেই রায়ে জয়ের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

