আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এই নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে মাঠে থাকবেন ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, যা এবারের ভোটকে আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এই তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গতকাল রোববার, রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত এসব তথ্য তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
পরে সন্ধ্যায় ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৯৯৪ জন।
এর মধ্যে ২৫৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নয়, ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই বিপুলসংখ্যক প্রার্থী ও দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের দিন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক। ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ব্যালট ব্যবস্থাপনা এবং গণনার প্রক্রিয়া—সবকিছুই পর্যবেক্ষকদের নজরদারিতে থাকবে।
এর পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন, যা নির্বাচন কমিশনের ভাষায় স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে,
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই সময়ের মধ্যেই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে। ভোট গ্রহণে ব্যবহার করা হবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের প্রতিটি ধাপ যেন স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন,
এই বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও পর্যবেক্ষণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই তাদের লক্ষ্য।
দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষক, কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখবে—এমনটাই আশা কমিশনের।

