আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ১৬টি দেশ বাংলাদেশের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। এসব দেশ থেকে মোট ৫৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেবেন। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেস উইং জানায়, এই ৫৭ জন প্রতিনিধি ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ এবং গণতান্ত্রিক সুশাসন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কয়েক শ পর্যবেক্ষক নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে যুক্ত হবেন। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরের হতে যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষক পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি আসছেন। দেশটি পাঠাচ্ছে ১৪ জন পর্যবেক্ষক। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন।
এর পরেই রয়েছে তুরস্ক, যারা পাঠাচ্ছে ১২ জন পর্যবেক্ষক। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে দেশটির কয়েকজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।
এ ছাড়া আরও যেসব দেশ পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন, পাকিস্তান থেকে ৩ জন, ভুটান থেকে ২ জন, মালদ্বীপ থেকে ২ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ১ জন, ফিলিপাইন থেকে ২ জন, জর্ডান থেকে ২ জন, ইরান থেকে ১ জন, জর্জিয়া থেকে ২ জন, রাশিয়া থেকে ২ জন, কিরগিজস্তান থেকে ২ জন, উজবেকিস্তান থেকে ১ জন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন প্রতিনিধি থাকছেন।
এই প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড্যাকি পেমা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয় কার্যক্রমে যুক্ত জ্যেষ্ঠ সচিব এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকের নিশ্চিতকরণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধিদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে। ফলে নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো এবারের নির্বাচনে আগত ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন।
এই দলে আরও থাকছেন মালদ্বীপের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফরি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইওএম) নেতৃত্ব দেবেন লাটভিয়া থেকে নির্বাচিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইয়াবস।
এই মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা হলেন—
লুকাস মান্ডল (অস্ট্রিয়া), লোরান্ত ভিঞ্চে (রোমানিয়া), তোমাস জদেখোভস্কি (চেক প্রজাতন্ত্র), লেইরে পাজিন (স্পেন), সেরবান দিমিত্রি স্তুরদজা (রোমানিয়া), মাইকেল ম্যাকনামারা (আয়ারল্যান্ড) এবং ক্যাটারিনা ভিয়েরা (নেদারল্যান্ডস)।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এই বিস্তৃত উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ ও নজরদারির প্রতিফলন। সরকার আশা করছে, এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্ত হবে।

