আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ করেই বড় ধাক্কা খেল স্বর্ণের দাম। মাত্র একদিনে বিশ্ববাজারে সোনার দর কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এমন আকস্মিক দরপতনে বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এক আউন্স সোনা প্রায় ২ দশমিক ৬৬৭ ভরির সমান। এর আগের দিন প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এমনকি তারও আগে, বৃহস্পতিবার সকালে সোনার দর উঠেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে, যা বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
হিসাব করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ দরে পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পতনের পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। এত অল্প সময়ে এমন বড় দরপতন বিশ্ব স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, পাশাপাশি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এসব অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে সেই রেকর্ড ছোঁয়ার পরই গত দুই দিন ধরে শুরু হয়েছে দরপতন।
বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যায়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেন, ফলে দাম লাফিয়ে বাড়ে। কিন্তু স্বল্প সময়ে ভালো মুনাফা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে শুরু করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত সোনার দামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজারের স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন, যা মিলিয়ে সাম্প্রতিক বড় দরপতনের পেছনে কাজ করছে।
বিশ্ববাজারের এই হঠাৎ পতনের প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্বর্ণের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশে এক ভরি সোনার দাম একবারে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আবার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা দাম কমানো হয়। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়। এই নতুন দাম শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়।
বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

