রাজধানীর আকাশপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় অবশেষে নতুন মোড় এসেছে। প্রায় তিন বছর ধরে বৈঠক, দর-কষাকষি ও সিদ্ধান্তহীনতার জালে আটকে থাকা এই প্রকল্প পরিচালনায় এবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই টার্মিনালের ভৌত কাজ ইতোমধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পরিচালনার জন্য উপযুক্ত অপারেটর চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। ফলে দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের এই আধুনিক স্থাপনাটি ব্যবহারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
সংকট নিরসনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বেবিচকের সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় ‘তৃতীয় টার্মিনাল অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে চলমান দর-কষাকষি নিষ্পত্তি না হলে ‘প্ল্যান-বি’ প্রস্তুতের বিষয়ে আগেই বেবিচককে জানানো হয়েছিল। পরবর্তী কয়েকটি বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় এবার উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, গত তিন বছরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। নেতৃত্বের এই ঘন ঘন পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রকল্পটি পড়েছে নানা জটিলতায়।
এর মধ্যে রয়েছে—
-
নির্মাণ ব্যয় পরিশোধ-সংক্রান্ত জটিলতা
-
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্গো ভিলেজের ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়া
-
অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা
সব মিলিয়ে, প্রায় প্রস্তুত একটি মেগা প্রকল্প কাগজে-কলমে শেষ হলেও বাস্তবে চালু হতে পারেনি।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশন) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলেছে। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিমান মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান চলাচলে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের পথে তৃতীয় টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশ্ন একটাই—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কবে?
উন্মুক্ত দরপত্রের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং কবে কার্যক্রম শুরু হয়—এখন সেই দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ যাত্রীরা।

