সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এখন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থান করছেন। তবে এটি স্থায়ী নয়—এমনটাই জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “এখন উনি যমুনায় আছেন এক সপ্তাহের জন্য। এই সপ্তাহের পরে মুভ করবেন উনি গুলশানের বাসায়।”
অর্থাৎ খুব শিগগিরই সরকারি বাসভবন ছেড়ে ব্যক্তিগত ঠিকানায় ফিরে যাবেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।
কেন যমুনায় ছিলেন ইউনূস?
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার তিনদিন পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক ইউনূস।
সাধারণত গণভবনই সরকার প্রধানের বাসভবন হয়ে থাকে। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে গণভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করে।
সেই থেকেই যমুনাতেই থাকছিলেন অধ্যাপক ইউনূস।
নতুন সরকার, নতুন প্রস্তুতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূস এখনো যমুনায় সরকারি বাসভবনেই আছেন। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি এটি ছেড়ে দেবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তার আগে ভবনটিতে কিছু সংস্কার কাজ করা হবে।
রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান বলেন, “এখানে ওঠার কথা। আমি যতটুকু জানি, এখানে সংস্কারের কাজ হবে। এটা হয়তো আনুমানিক মাস দুই লাগতে পারে উঠতে।”
সংস্কার কাজ কতদিন?
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী যখন উঠবেন, তখন তার চাহিদা অনুযায়ী কিছু সংস্কার কাজ লাগবেই। প্রধান উপদেষ্টা ওঠার আগে যেমন কিছু কাজ করা হয়েছিল, তেমনি এবারও প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা টার্গেট করেছি যে, আমরা এটা ভ্যাকেন্ট পাওয়ার পর থেকে এক মাসের মধ্যে রেডি করতে পারবো।”
অর্থাৎ অধ্যাপক ইউনূস যমুনা ছাড়ার পরপরই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।
গুলশানে ফিরছেন ইউনূস
অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুলশানের নিজ বাসায় সামান্য রিনোভেশনের কাজ চলছে। সে কারণেই তিনি আরও সপ্তাহখানেক যমুনায় থাকছেন।
বৃহস্পতিবারও তিনি স্ত্রী ও মেয়েসহ যমুনায় অবস্থান করছিলেন। রিনোভেশনের কাজ শেষ হলেই গুলশানের বাসায় ফিরে যাবেন।
দেশেই থাকছেন, সামনে বিদেশ সফর
অধ্যাপক ইউনূস আপাতত দেশেই থাকছেন। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাবেন এবং পরে আবার দেশে ফিরবেন।
জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠানে তিনি লেকচার দেবেন, বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আপাতত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের জাপান সফরই তার প্রথম বিদেশ সফর। অন্য কোনো আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন কি না, এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ করে অধ্যাপক ইউনূস আবারও ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ফিরছেন। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই তিনি ইউনূস সেন্টারে অফিস শুরু করবেন।
তার মূল লক্ষ্য থাকবে ‘থ্রি জিরো’ ধারণা নিয়ে কাজ করা—
-
শূন্য দারিদ্র
-
শূন্য বেকারত্ব
-
শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ
এই ধারণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়াই তার দীর্ঘদিনের উদ্যোগ।
অধ্যাপক ইউনূস এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ করে তিনি আবারও নিজের পুরোনো কাজ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে মনোযোগ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য যমুনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংস্কার শেষে কবে তিনি সেখানে উঠবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং আরেকটির সূচনা—যমুনাকে ঘিরে আপাতত সেটিই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

