প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের জানান, এটি হবে সর্বজনীন কর্মসূচি এবং এতে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। মন্ত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুতই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং কার্ড সরাসরি প্রতিটি পরিবারের নারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমানে যে ভাতা কার্ডগুলো চালু আছে, তা বহাল থাকবে। তবে ফ্যামিলি কার্ডে প্রদত্ত অর্থ আগের যেকোনো ভাতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত উপকমিটি তিন দিনের মধ্যে সুপারিশ দেবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। কর্মসূচি যেন বৈষম্যহীন ও বিতর্কমুক্ত হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে।
কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ জানান, প্রথমে হতদরিদ্র নারীদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসে নগদ ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে কিছু অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে প্রথম ধাপে কতজন সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকার ধাপে ধাপে সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, নির্বাচনী ইশতেহারেই এ কর্মসূচির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। প্রথমে অতি দরিদ্র, পরে দরিদ্র এবং পর্যায়ক্রমে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে দ্রুত বাস্তবায়নে।
১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং একটি ডিজিটাল এমআইএস তৈরির সুপারিশ। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেস আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ডেটাবেস তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালুর কথাও বলা হয়েছে।
খাল খনন কর্মসূচি: ১৮০ দিনের লক্ষ্য
একই বৈঠকে জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, শিগগিরই সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। ১৮০ দিনের মধ্যে এর বড় অংশ দৃশ্যমান করা হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন কার্যক্রম না থাকায় বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও সেচের জন্য পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা—এই চার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বসে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কবে থেকে কাজ শুরু হবে।

