ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বড় জয় ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নতুন পথচলার পর চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতি পুনরায় সচল করার দাবি জানিয়েছে। তারা চান ‘ব্যবসাবান্ধব সরকার’, যা প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেবে।
পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ বলেন, “নতুন সরকার ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের ব্যবসার পরিবেশ আমূল পরিবর্তিত হবে। শুনেছি, নতুন অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন।”
জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, “ব্যাংক খাত সংস্কার ও আমদানী-রপ্তানী সহজ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণ ও শর্তসমূহ সরল করা হলে বিনিয়োগের পরিবেশ দ্রুততর হবে।”
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইন সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করতে এলসি মার্জিন সহনীয় করতে হবে। এছাড়া ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বন্দর নগরীর ব্যবসায়ীদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের ব্যবসা বিরোধী নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। অসংখ্য শিল্প-কারখানার উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে আছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে, উচ্চ সুদ কমাতে হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন।
শিল্পে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি সহজ করতে বিধিনিষেধ কমানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে থমকে থাকা শিল্পকারখানার চাকা সচল করতে অপর্যাপ্ত সরবরাহ বৃদ্ধি ও খরচ কমানো জরুরি।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা চাচ্ছেন কর ও শুল্ক কাঠামোর সংস্কার, হয়রানিমুক্ত ট্যাক্স ও ভ্যাট আদায়, এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

