ঢাকা শহরের ওয়াসার এটিএম বুথে পানির দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। এর আগে লিটার প্রতি ৮০ পয়সা ছিল । ২০ পয়সা বাড়িয়ে পানি এখন ১ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সরাসরি পানির বুথে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, নতুন সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানো হবে এমন আশা ছিল, কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।
পুরান ঢাকার কলতাবাজার বুথ থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসা তাসফিয়া তামান্না জানান, “পানি মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ দাম বাড়ানো আমাদের দৈনন্দিন ব্যয়কে আরও চাপের মধ্যে ফেলছে। যদিও ২০ পয়সা বাড়ানো টাকার মানে ছোট, তবে যাদের প্রতিদিন ২৫-৩০ লিটার পানি লাগে, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
লক্ষ্মী বাজারের রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “সরকার নানা অপ্রয়োজনীয় খাতে বিশাল অর্থ ব্যয় করছে, তবে খাওয়ার পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে কোনও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে না। দরিদ্রদের বোঝা কমাতে এখানে ভর্তুকি দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।”
এই ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা মো. ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, পানি সরবরাহ ও এটিএম বুথ পরিচালনার খরচ বৃদ্ধি, কেমিক্যাল ও ফিল্টারের মূল্যবৃদ্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের পানির নিরাপদ সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা ড্রিংকওয়েল মিলে বর্তমানে রাজধানীতে ৩০২টি ওয়াটার এটিএম বুথ পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীরা ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মতো আরএফআইডি কার্ড দিয়ে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পানি সংগ্রহ করতে পারেন। একেবারে ছোট টাকা থেকে ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ সম্ভব, যা গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়াচ্ছে।

