জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
আজ রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুদকের দায়ের করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত ৩০ মার্চের মধ্যে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর দুদক অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর স্থাবর সম্পদ ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকা।
মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী বেনজীর আহমেদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ এই অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা লুকিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

