ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এ কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জানাতে আগামী সোমবার (৯ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরদিন মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম পর্যায়ে সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম চালু করা হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরুতে ১৪টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে ইউনিয়নে এ কর্মসূচি চালু করা হবে। পরে ফলাফল মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদের একটি উপ-কমিটি এই কর্মসূচি নিয়ে কাজ করেছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের সুবিধা পাবেন মূলতঃ দরিদ্র, অতিদরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানরা। একটি পরিবারের মা বা নারী অভিভাবককে কেন্দ্র করেই সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে পরিবারগুলো সরাসরি উপকার পায়। মন্ত্রী আরও বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে সব সুবিধাভোগীকে নির্বাচন করা হবে।
সরকার ইতোমধ্যে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের জন্য ‘ডোর-টু-ডোর’ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। নারীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং দরিদ্র পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

