বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট কাটাতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ৩৯টি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছে নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)।
প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রাথমিক মূলধন নিয়ে এটি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র জানায়, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে বিএসআইসি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে। এরপর ৩০ জুনের মধ্যেই অন্তত তিনটি স্টার্টআপে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপদের শুধু অর্থায়নই দেবে না, পাশাপাশি কৌশলগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহবিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্টার্টআপ খাতে ব্যর্থতার হার বেশি প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ উদ্যোগ টিকে থাকতে পারে না। তবে কয়েকটি সফল উদ্যোগই বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে। সেই বিবেচনায় বাজারে চাহিদা রয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্টার্টআপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শুরুতে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, পরিবহন, রিটেল ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো সফল হলে বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতায় আরও সমৃদ্ধ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৮ থেকে ১২টি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা হবে। আর ২০২৯ সালের পর সফল প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা বা সরাসরি অংশ বিক্রির মাধ্যমে বেরিয়ে আসার কৌশল নেওয়া হবে।
এই ফান্ডের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি ঋণ নয়, ইক্যুইটি ভিত্তিতে অর্থায়ন দেবে। অর্থাৎ বিএসআইসি স্টার্টআপের অংশীদার হবে, সুদ গ্রহণ করবে না। প্রতি বছর ব্যাংকগুলোর নতুন লাভের ১ শতাংশ অবদানের মাধ্যমে ফান্ডের আকার বাড়ানো হবে।
বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক এই তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশীদার, যার শেয়ার ৭.৭১ শতাংশ। এরপর রয়েছে সিটি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, পুবালি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং প্রাইম ব্যাংক।
বিএসআইসি’র লক্ষ্য শুধু অর্থায়ন নয়; বরং বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলা। ভবিষ্যতে উবার, ইনস্টাগ্রাম বা এয়ারবিএনবির মতো বড় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়েই এই যাত্রা শুরু হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ৯ সদস্যের বোর্ডে দেশের শীর্ষ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা রয়েছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফি।
আর অস্থায়ী সিইও হিসেবে আছেন প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী। মে মাসের মধ্যে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞকে স্থায়ী সিইও ও হেড অব ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

