উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ ও মূলধন সংকটের কারণে দেশের ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ঝুঁকি এড়াতে অনেক ব্যাংক এখন ব্যবসায়িক ঋণের পরিবর্তে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।
রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন বক্তারা। ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয়: ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এই ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় নীতিনির্ধারক, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, দেশের বাস্তবতায় ব্যাংক কোম্পানি আইনসহ আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে শ্রমনির্ভর শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় ব্যাংকের সম্পদ কমে যাচ্ছে এবং মূলধন সংকট তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক ঋণের বদলে নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অনুকূল ব্যবসা পরিবেশের অভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ঋণ পরিশোধে সমস্যা বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজ করা জরুরি। এ খাতে ইতোমধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো কিছুটা এগিয়ে এলেও আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনায় উঠে আসে, ব্যাংকগুলোর এই ঋণ বিতরণে অনাগ্রহ শুধু আর্থিক খাতেই নয়, পুরো অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে গেলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে বক্তারা মনে করেন, খেলাপি ঋণ কমানো, মূলধন শক্তিশালী করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করা গেলে ব্যাংকগুলোকে আবারও ঋণ বিতরণে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

