পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ১৯২ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি। এই অর্থ যাবে তাদের সাবসিডিয়ারি উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজ পিএলসি-এ, যেখানে মূলধন বাড়ানোর একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগটি সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির ভিত্তিতে সাবসিডিয়ারির মূলধন বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের জন্য ১:৪ অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে। অর্থাৎ, প্রতি চারটি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে একটি নতুন শেয়ার গ্রহণের সুযোগ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। যেহেতু সাবসিডিয়ারির শেয়ারধারীরা একই সঙ্গে মূল ব্যাংকেরও অংশীদার, তাই এই মূলধন বৃদ্ধি কার্যত মূল প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা দেখছেন পুঁজিবাজারে ব্যাংকের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে। ব্রোকারেজ ও সিকিউরিটিজ খাতে মূলধন বৃদ্ধি হলে বাজারে লেনদেন সক্ষমতা, আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ সেবা সম্প্রসারণ সহজ হয়। ফলে ব্যাংকের নন-ফান্ডেড আয় বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আর্থিক সূচকেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ২৬ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা ৬৭ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটি মোট ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যার অর্ধেক নগদ এবং অর্ধেক স্টক লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হয়। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়ায় ৫ টাকা ৭৭ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বছরের শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৩২ টাকা ৭ পয়সা।
পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের উপস্থিতি থাকা এই ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯৭০ কোটির বেশি। শক্তিশালী রিজার্ভ ভিত্তিও রয়েছে, যা ১ হাজার ৬৭৭ কোটিরও বেশি। শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে প্রায় ২৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে প্রায় ২৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ খুবই সীমিত এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দখলে রয়েছে সবচেয়ে বড় অংশ।
পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক লেনদেনে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ছিল ২৫ টাকার কাছাকাছি। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল প্রবণতা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবসিডিয়ারিতে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি মূলত তার পুঁজিবাজার কার্যক্রমকে নতুন করে সাজাতে চাইছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকের বহুমুখী ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

