ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গ্রাহকসেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এক ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’ পালনের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দেশনা দেয়নি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকসেবা ব্যাহত করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা। তাই সেবা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা বা কর্মবিরতি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে আন্দোলনরত একটি পক্ষ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার প্রতীকী কলম বিরতি পালনের আহ্বান জানায়।
ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, কিছু কর্মকর্তা ওই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি শাখায় গ্রাহকসেবা কার্যক্রমে সাময়িক ধীরগতি দেখা গেলেও এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ প্রসঙ্গে আলতাফ হুসাইন বলেন, প্রধান কার্যালয় থেকে দেশের প্রতিটি শাখার তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে কোথাও গ্রাহকসেবা বিঘ্নিত হলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা দিতে প্রস্তুত আছেন এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণে আমানতকারীরা একযোগে অর্থ উত্তোলন শুরু করলে ব্যাংকের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ব্যাংকের সব গ্রাহক যদি একই দিনে তাদের সব অর্থ তুলে নিতে চান, তাহলে যেকোনো ব্যাংকই চাপে পড়বে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটে না এবং বর্তমানে সে ধরনের কোনো আশঙ্কাও নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতির কারণে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তা এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাপ বাড়লেও ব্যাংকের কার্যক্রমে বড় ধরনের ঝুঁকি বা অস্বাভাবিক সংকট তৈরি হয়নি।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই চলমান আন্দোলন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ বিতর্কের মধ্যেও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখা ইসলামী ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবস্থানও ক্রমেই আরও কঠোর হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির সামনে দুটি বড় কাজ রয়েছে—একদিকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আন্দোলন মোকাবিলা করা, অন্যদিকে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে স্বাভাবিক লেনদেন ও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে আন্দোলনের প্রভাব কতটা গভীর হয় এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা তা কীভাবে সামাল দেয়।

