ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় এলাকা। নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্বহালের দাবিতে টানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও মতিঝিলে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন একদল গ্রাহক ও অংশীজন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে জলকামান ও সাঁজোয়া যানসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যাংকের পরিচালনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন গ্রাহক ও আমানতকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে তারা বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন গ্রাহক বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি লাখো আমানতকারীর আস্থা জড়িয়ে আছে। তাই পরিচালনা কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে ব্যাংকের অতীত ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণ, অর্থপাচার সংক্রান্ত আলোচিত অভিযোগ এবং পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তন নিয়েও নানা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বৃহৎ আমানতভিত্তিক কোনো ব্যাংককে ঘিরে গ্রাহকদের প্রকাশ্য উদ্বেগ তৈরি হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
এর আগে গত সপ্তাহে একই দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপরও আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চেয়ারম্যান পদে নতুন নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেই অসন্তোষই এখন সংগঠিত আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের।

