বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর একটি ইসলামী ব্যাংকে আমানত উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে।
রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের কারণে কিছু গ্রাহক উদ্বিগ্ন হয়ে একযোগে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো সময় তারা তাদের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুজব প্রায়ই বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিতে পারে। কোনো ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চেয়ে অনেক সময় গ্রাহকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কই বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় স্থিতিশীল থাকা একটি ব্যাংকও একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের অর্থ উত্তোলনের চাপে সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
ভিডিও বার্তায় ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতীতের একটি সংকটময় সময়ের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও ব্যাংকটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু গ্রাহকদের আস্থা এবং আমানতকারীদের সমর্থনের কারণে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিল। বরং পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের আমানত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থা, ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের নিবিড় তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে অনিয়ম, পক্ষপাত বা অর্থ অপব্যবহারের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আমানতকারীদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে ভিডিও বার্তায়। ইসলামী ব্যাংকের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা এবং নীতিগত সমর্থনের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো ব্যাংক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের ওপর নির্ভর না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ যাচাইবাছাই ছাড়া প্রচারিত তথ্য অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করে, যা শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে যদি আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে তা দ্রুত দূর করা জরুরি। এ কারণেই ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরাসরি গ্রাহকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির প্রধান বার্তা হলো—আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে, ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে এবং কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে গ্রাহকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

