বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়াতে এবং দেশটিতে কার্যরত চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশে চীনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওসিএআইবি)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে ব্যাংকটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সহজে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পাবে। একই সঙ্গে দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি ঢাকায় এমটিবির করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং ওসিএআইবির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স ওয়াই সি চ্যাং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় এমটিবির বিশেষায়িত ‘চায়না ডেস্ক’-এর মাধ্যমে ওসিএআইবির সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনভিত্তিক ব্যাংকিং সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, ট্রেজারি সেবা, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বিষয়ে বিশেষায়িত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সহজ ও সমন্বিত ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা গেলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা আরও সহজ হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো, উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন শিল্প খাতে চীনের বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধু নীতিগত সহায়তা নয়, আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সুবিধাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত আর্থিক পরামর্শ সহজলভ্য হলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ে এবং ব্যবসায়িক আস্থাও শক্তিশালী হয়।
অনুষ্ঠানে এমটিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ওসিএআইবির বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সহায়তা কাঠামো গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে দেশে আরও বেশি প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি শুধু শিল্পায়নই ত্বরান্বিত করবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা সম্প্রসারণকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

