বাংলা কিউআর পেমেন্টে লেনদেন ব্যর্থ হলেও গ্রাহকের টাকা ফেরত পেতে আর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলেও বিক্রেতা টাকা না পেলে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর পেমেন্টসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই নিয়ম আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
নতুন ব্যবস্থায় কোনো গ্রাহক পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের সময় টাকা কেটে যাওয়ার পরও লেনদেন সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে অথবা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে টাকা ফেরত দেবে।
এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে আলাদাভাবে কোনো অভিযোগ করার প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে না, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহক লেনদেনের ৪৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ করতে পারবেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তা গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সমাধান না হলে বিষয়টি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) কেন্দ্রীয় বিরোধ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার মাধ্যমে চার্জব্যাক প্রক্রিয়ায় যাবে।
চার্জব্যাক প্রক্রিয়ায় অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতার পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। এরপরও সমাধান না হলে বিষয়টি সালিশ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে, যা ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
গ্রাহকের পণ্য না পাওয়া, একই লেনদেনে একাধিকবার টাকা কেটে নেওয়া, ভুল বিলিং এবং টাকা কেটে গেলেও বিক্রেতা টাকা না পাওয়ার মতো সমস্যার জন্য আটটি নির্দিষ্ট অভিযোগের কোড চালু করা হয়েছে।
এ ছাড়া লেনদেনের অবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নতুন ‘ট্রানজেকশন স্ট্যাটাস ইনকোয়ারি’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো লেনদেন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরাসরি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এর ফলে গ্রাহকদের ম্যানুয়ালি অভিযোগ করার প্রয়োজন কমবে এবং ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
এদিকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে নগদ প্রণোদনার আওতাও বাড়ানো হয়েছে।
আগে শুধু তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতারা এই সুবিধা পেলেও এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী যেসব বিক্রেতা এনপিএসবি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবহার করবেন, তারাও এই প্রণোদনার আওতায় আসবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা কিউআরে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেন মূল্যের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে মাসিক নগদ প্রণোদনা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইলেকট্রনিক লেনদেনের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

