ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদ আবু জাফর। ব্যাংক খাতে তাঁর কর্মজীবনের বয়স ৩৬ বছর। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবু জাফর দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। এর মধ্যে আছে ব্যবসা উন্নয়ন, তৈরি পোশাক খাতে অর্থায়ন, অফশোর ব্যাংকিং, করপোরেট ব্যাংকিং, ট্রেজারি, ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন ও শাখা ব্যাংকিং।
ন্যাশনাল ব্যাংকে আসার আগে তিনি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন। তার আগে ঢাকা ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা (চিফ বিজনেস অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি ঢাকা ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডেরও এমডি ছিলেন।
তাঁর ব্যাংকিং জীবনের শুরু ১৯৯০ সালে। তখন উত্তরা ব্যাংক পিএলসিতে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগ দেন। পরে উত্তরা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকে মিলিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। এই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শাখা ব্যাংকিংয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
এই নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে তাঁর কর্মজীবনের ধরনটি দেখা দরকার। ১৯৯০ থেকে ২০২৬, এই ছত্রিশ বছরে তিনি প্রবেশনারি অফিসার থেকে দুটি ব্যাংকের শীর্ষ পদে পৌঁছেছেন। সাধারণত এমন ধাপে ধাপে ওঠা কর্মকর্তারা ব্যাংকের প্রতিটি বিভাগের কাজ ভেতর থেকে চেনেন। শাখা ব্যাংকিং থেকে ট্রেজারি, ঋণ ব্যবস্থাপনা থেকে বৈদেশিক বাণিজ্য, সব ক্ষেত্রে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিস্তৃতি একজন এমডির জন্য বাড়তি সুবিধা, কারণ শীর্ষ পদে একসঙ্গে অনেক দিক সামলাতে হয়।
তাঁর অভিজ্ঞতার একটি বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। এডি শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে পনেরো বছরের বেশি কাজ করা কম সময় নয়। তৈরি পোশাক খাতে অর্থায়ন ও অফশোর ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতাও একই ধারার। বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রধানত পোশাক খাতনির্ভর, আর ব্যাংকগুলোর ব্যবসার বড় অংশ জড়িয়ে আছে আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নে। এদিক থেকে তাঁর অভিজ্ঞতা ন্যাশনাল ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যভিত্তিক কার্যক্রমে কাজে লাগতে পারে।
আরেকটি লক্ষণীয় দিক হলো ঋণ ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা। দেশের ব্যাংক খাত এখন উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপে আছে। এই পরিস্থিতিতে ঋণ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞ কাউকে শীর্ষ পদে পাওয়া যেকোনো ব্যাংকের জন্যই প্রাসঙ্গিক। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান ঋণমান বা খেলাপি ঋণের অবস্থা নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি। তাই সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতা কতটা কাজে আসবে, তা এখনই বলা যায় না।
বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি তথ্য নেই। তিনি কবে থেকে এই ব্যাংকে যুক্ত হয়েছেন, আগের এমডি কে ছিলেন কিংবা দায়িত্ব বদলের কারণ কী, তা জানানো হয়নি। প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে তিনি কখন বিদায় নিয়েছেন, সেটিও উল্লেখ নেই। এ কারণে নিয়োগটির পেছনের প্রেক্ষাপট বা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করার সুযোগ নেই। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
আরেকটি বিষয় আকর্ষণীয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনি অতীতে উত্তরা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকে এডি শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। অর্থাৎ ন্যাশনাল ব্যাংকের কাজের সংস্কৃতি ও কাঠামো তাঁর অপরিচিত নয়। তবে কত বছর তিনি এই ব্যাংকে ছিলেন, সে তথ্য আলাদা করে দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে তাঁর পেশাগত পরিচয় শাখা ব্যাংকিং থেকে শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কতটা ফল দেবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ ও তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী মাসগুলোতে ব্যাংকের ব্যবসা, ঋণ আদায় ও গ্রাহকসেবার অগ্রগতি দেখলেই বোঝা যাবে নতুন নেতৃত্বের প্রভাব।

