শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় ব্যাংকগুলোর জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কার্ডের পণ্য, চুক্তি, লেনদেন, ফি, চার্জ ও পরিচালনা পদ্ধতিসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে শরিয়াহ নীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ইসলামী কার্ডের মূল পার্থক্য যাতে স্পষ্ট থাকে, নির্দেশিকায় সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থার জায়গায় ব্যাংকগুলোকে কর্জ ও উজরাহ, অর্থাৎ সেবা মূল্যের নীতি অনুসরণ করতে হবে। এর মানে, কার্ড ব্যবহারের বিপরীতে সুদ আরোপের সুযোগ থাকছে না। ব্যাংক শুধু সেবার বিনিময়ে নির্ধারিত মূল্য নিতে পারবে।
শরিয়াহ মতে নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। মদ, জুয়া ও তামাকের মতো পণ্য বা সেবার লেনদেনে ইসলামী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। কার্ড পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো মুদারাবা বা বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের সঞ্চিত আমানতের তহবিলও ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাৎ কার্ডের অর্থায়নের উৎস আলাদা রাখতে হবে।
নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কার্ড ব্যবহার করে নগদ টাকা তুললে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নেওয়া যাবে। তবে তোলা টাকার ওপর শতাংশ হারে কোনো ফি আরোপ করা যাবে না। এই শর্তের উদ্দেশ্য হলো, উত্তোলনের পরিমাণ বাড়লে ফিও বাড়ার মতো ব্যবস্থা, যা সুদের মতো আচরণ করতে পারে, তা এড়ানো।
গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায়ও পদক্ষেপ আছে। কার্ডসংক্রান্ত কোনো ফি বা চার্জ পরিবর্তন করতে চাইলে ব্যাংককে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে। এতে গ্রাহক নতুন শর্ত বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাবেন।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, নগদ উত্তোলন কিংবা ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো ক্ষেত্রে নেওয়া অর্থ হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো বাড়তি অর্থ বা সুবিধা আদায় করা যাবে না।
সব মিলিয়ে নির্দেশিকাটি ইসলামী ব্যাংকিংয়ে কার্ডভিত্তিক সেবাকে একটি স্পষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা। এতে ধর্মীয় বিধান মেনে চলতে আগ্রহী গ্রাহকদের আস্থা বাড়তে পারে। তবে ব্যাংকগুলো বাস্তবে এসব নিয়ম কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে প্রয়োগ করে এবং তদারকি কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই এর সফলতা নির্ভর করবে।

