দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাংবাদিক সানাউল্লাহ সাকিবের বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, তীব্র তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) থেকে তাদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং ও আমানত ফেরতের লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক থেকে পাওয়া ৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তার ওপর ভর করে ব্যাংকটি সাধারণ আমানতকারীদের বকেয়া চাহিদা মেটানো শুরু করেছে। তবে এই অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশ ব্যাংক ১১টি কঠোর আইনি শর্ত আরোপ করেছে।
গ্রাহকদের চাহিদার চাপ সঠিকভাবে সামলাতে ব্যাংকটি গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমানত উত্তোলনের আবেদন সংগ্রহ করে। এই চার দিনে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে প্রায় ১১ হাজার গ্রাহক আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা দিয়েছেন। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় সেই অনুযায়ী প্রতিটি শাখায় প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু জাফর জানান, পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসায় আতঙ্ক কমেছে এবং আমানত জমা ও উত্তোলনের মধ্যে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। প্রথম দফায় চালু ও সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যদের অর্থও পরিশোধ করা হবে।
২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও বেনামী ঋণ বিতরণের শিকার হয়। ফলে ব্যাংকটি নজিরবিহীন লোকসান ও তারল্য ঘাটতিতে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ৩৩,৫১৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩,২৩০ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে দাঁড়ায় ১৩২ শতাংশে, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী এটি ৮৭ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা। গত জুন শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল খেলাপি। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ধারের পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকায়।

