একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে ব্যাংকিং খাত তার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মানুষের সঞ্চয় ব্যাংকে জমা হয়, সেই অর্থ ঋণ হিসেবে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা ও উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু ব্যাংক যখন ঋণ বিতরণ করে অর্থ ফেরত পায় না, আমানতকারীর অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়ে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলে, তখন পুরো অর্থনীতির স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এমনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বিপুল খেলাপি ঋণ, কয়েকটি ব্যাংকের তীব্র তারল্যসংকট, মূলধনের ঘাটতি, দুর্বল সুশাসন এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বিস্তার, দুর্বল তদারকি এবং ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তবে সংকটের প্রকৃতি বুঝতে একটি মৌলিক পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। খেলাপি ঋণ ও তারল্যসংকট পরস্পর সম্পর্কিত হলেও এক বিষয় নয়। খেলাপি ঋণ ব্যাংকের সম্পদের মান ও অর্থ ফেরত পাওয়ার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে; অন্যদিকে তারল্যসংকট দেখা দেয় যখন ব্যাংক সময়মতো তার দায় পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বা সহজে নগদায়নযোগ্য সম্পদ সংগ্রহ করতে পারে না। কোনো ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়েও সাময়িকভাবে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ ধরে রাখতে পারে; আবার সম্পদের মূল্য যথেষ্ট হলেও সময়মতো অর্থ হাতে না থাকায় তারল্যসংকটে পড়তে পারে।
অতএব, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ক্ষত নিরাময়ে শুধু অর্থের জোগান বাড়ানো কিংবা খেলাপি ঋণের অনুপাত কমানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতা শনাক্ত করা, ঋণ আদায় জোরদার করা, আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা।
সংকটের চালচিত্র: খেলাপি ঋণের ভয়াবহ বাস্তবতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসে তা বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩৫.৭৩ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে এই অনুপাত কমলেও মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখনো উদ্বেগজনক। কারণ, ঋণের অনুপাত নির্ভর করে মোট ঋণের পরিমাণের ওপরও। তাই অনুপাতের সামান্য হ্রাসকে প্রকৃত ঋণ আদায়ের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। খেলাপি ঋণের পাশাপাশি পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপন করা ঋণ বিবেচনায় নিলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ঝুঁকি আরও বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি, পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপন করা ঋণসহ বৃহত্তর ঝুঁকিপূর্ণ ঋণসম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশের সমতুল্য।
তবে এই অঙ্কের পুরোটা সরাসরি খেলাপি ঋণ নয়। পুনঃতফসিলকৃত ঋণের কিছু অংশ নিয়মিত আদায় হতে পারে এবং অবলোপন করা ঋণও আইনগতভাবে আদায়ের প্রচেষ্টা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়ে না। তবু সম্মিলিত পরিসংখ্যানটি ব্যাংকিং খাতের ঋণসম্পদের মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
আরও উদ্বেগজনক হলো, খেলাপি ঋণ সমানভাবে সব ব্যাংকে ছড়িয়ে নেই। ২০২৬ সালের জুন শেষে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছে দেশের মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল। অর্থাৎ, ব্যাংকিং খাতের সংকটের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের প্রতি বিশেষ সুবিধা, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, বারবার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে ব্যর্থতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ঋণ অনাদায়ি হলেও অন্য ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, সম্পদ গোপন কিংবা অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এই দুই ধরনের পরিস্থিতিকে একভাবে বিবেচনা করলে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
তারল্যসংকট: পুরো খাতে ঘাটতি, নাকি কিছু ব্যাংকের দুর্বলতা? ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই বলা হয়, দেশে তারল্যের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু এই বক্তব্যের সঙ্গে ব্যাংকভিত্তিক বাস্তবতার পার্থক্য করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত তরল সম্পদ থাকা এবং কয়েকটি ব্যাংকের নিজস্ব তারল্যসংকটে পড়া একই সঙ্গে সম্ভব। কোনো ব্যাংকের হাতে নগদ অর্থ কমে গেলে, আমানত প্রত্যাহারের চাপ বাড়লে কিংবা ঋণের অর্থ ফেরত না এলে প্রতিষ্ঠানটি দৈনন্দিন দায় পরিশোধে সমস্যায় পড়তে পারে। অন্যদিকে, তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকতে পারে।
২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ১২টি সংকটগ্রস্ত ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে প্রায় ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে। এই সহায়তার উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলোর তাৎক্ষণিক অর্থপ্রবাহের চাপ সামাল দেওয়া এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধসহ জরুরি লেনদেন সচল রাখা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এ সময় সবচেয়ে বেশি সহায়তা পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহায়তা আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু এর কার্যকারিতা নির্ভর করে সহায়তা পাওয়া ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর। যে ব্যাংক সাময়িক অর্থপ্রবাহের সংকটে পড়েছে, তাকে স্বল্পমেয়াদি সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব। কিন্তু যে ব্যাংকের ঋণসম্পদের বড় অংশ অনাদায়ি, মূলধন ক্ষয়প্রাপ্ত এবং ব্যবস্থাপনা দুর্বল, তার ক্ষেত্রে শুধু অর্থ সরবরাহ করে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে না। অতএব, তারল্য সহায়তাকে স্থায়ী চিকিৎসা নয়, বরং সংকট মোকাবিলার একটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এর পাশাপাশি ঋণ আদায়, মূলধন পুনর্গঠন এবং ব্যবস্থাপনার সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি।
খেলাপি ঋণ ও তারল্যসংকটের দুষ্টচক্র। খেলাপি ঋণ ও তারল্যসংকটের সম্পর্ক একটি পারস্পরিক শক্তিবর্ধক চক্রের মতো কাজ করে। প্রথমে ব্যাংক ঋণ বিতরণ করে। ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহ কমে যায়। ঋণের বিপরীতে সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত সংস্থান রাখতে হলে মুনাফা ও মূলধনের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়। একই সময়ে আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা বাড়তে পারে।
এর ফলে ব্যাংককে জরুরি অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। তহবিলের ব্যয় বাড়ে, নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমে এবং উৎপাদনশীল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বিনিয়োগ ও উৎপাদন ব্যাহত হলে ব্যবসার আয় কমে যায়; ফলে নতুন ঋণও খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এই চক্রের ধারাবাহিকতা হলো— খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি → ব্যাংকের নগদ প্রবাহে চাপ → আমানতকারীর আস্থা দুর্বল হওয়া → অর্থ উত্তোলন ও তহবিল সংগ্রহের ব্যয় বৃদ্ধি → নতুন ঋণ বিতরণে সংকোচন → উৎপাদন ও বিনিয়োগে বাধা → নতুন খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
তবে এই সম্পর্ক সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে না। কোনো ব্যাংকের তারল্যসংকটের পেছনে অতিরিক্ত আমানত প্রত্যাহার, সম্পদের মেয়াদগত অসামঞ্জস্য কিংবা দুর্বল অর্থ ব্যবস্থাপনাও দায়ী হতে পারে। তাই কার্যকর নীতির জন্য প্রতিটি ব্যাংকের সমস্যা আলাদাভাবে নিরূপণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার পরিকল্পনা: উদ্যোগ থেকে বাস্তবায়ন। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং ব্যাংক পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত পাঁচ বছর মেয়াদি ১৩ দফা রূপরেখায় খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি শনাক্তকরণ, বড় ঋণগ্রহীতাদের ঝুঁকি সীমিত করা, মূলধনের ঘাটতি মোকাবিলা এবং ঋণ আদায় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে খেলাপি ঋণের অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি—এমন ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত ত্রৈমাসিক আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ঋণ আদায়ের অগ্রগতি মূল্যায়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
মধ্যমেয়াদি পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধারে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা এবং প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্য হলো ঋণ অনুমোদন থেকে শুরু করে আদায় পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।
আইনগত সংস্কারের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তাবিত ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’, ব্যাংক কোম্পানি আইনের আধুনিকায়ন এবং দেউলিয়াত্ব ও ঋণদাতাদের পাওনা নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ। এসব প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো অনাদায়ি ঋণ আদায় সহজ করা, ঋণগ্রহীতার সম্পদ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা করা এবং অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করা।
তবে প্রস্তাবিত আইন, খসড়া এবং ইতিমধ্যে কার্যকর আইনকে আলাদা করে দেখা জরুরি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ প্রণীত হয়েছে। এই আইন ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্যসংকট, দেউলিয়াত্ব এবং অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনগত কাঠামো প্রদান করে। অন্যদিকে, দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দেউলিয়াত্ব-সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দক্ষতার ওপর।
সংস্কারের সাফল্য তাই শুধু ঘোষণা দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। কত টাকা ঋণ আদায় হলো, কত ব্যাংকের মূলধনের ঘাটতি কমল, কত আমানতকারীর সেবা স্বাভাবিক হলো এবং কতটি ব্যাংক নির্ধারিত পুনরুদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করল—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।
স্বাধীন তদারকি ও সুশাসন: সংস্কারের প্রথম শর্ত। ব্যাংকিং খাতের সংকটের অন্যতম গভীর কারণ হলো সুশাসনের দুর্বলতা। ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বিস্তার, পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বহীনতা, স্বার্থের সংঘাত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমে প্রতিটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন। ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা, জামানতের প্রকৃত মূল্য, পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ঝুঁকি, সম্ভাব্য ক্ষতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দেওয়া ঋণ যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে বিশেষ নিরীক্ষা করানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কার্যকর করা জরুরি। সব ব্যাংককে একইভাবে পর্যবেক্ষণ না করে যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ, মূলধনের ঘাটতি কিংবা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বেশি, তাদের ওপর অধিক নজর দিতে হবে।
পরিচালনা পর্ষদে পেশাগত দক্ষতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ অনুমোদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মধ্যে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন থাকা প্রয়োজন। কোনো ঋণগ্রহীতা প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত স্বাধীনতা, দক্ষ জনবল এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদারকি শক্তিশালী করতে হবে। তবে স্বাধীনতার অর্থ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবমুক্ত থেকে আইন ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
ঋণ আদায়: সৎ উদ্যোক্তার পুনরুদ্ধার, ইচ্ছাকৃত খেলাপির জবাবদিহি। সব খেলাপি ঋণ একই কারণে সৃষ্টি হয় না। কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারের মন্দা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া কিংবা অন্য বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে। আবার কোনো ঋণগ্রহীতা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অর্থ ফেরত না দেওয়া, সম্পদ গোপন করা কিংবা ঋণের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এই দুই শ্রেণির জন্য পৃথক নীতি প্রয়োজন।
সাময়িক সংকটে থাকা কিন্তু ভবিষ্যতে আয় করে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাইয়ের পর ঋণ পুনর্গঠন, কিস্তির সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ কিংবা ব্যবসা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ছাড় দেওয়ার শর্ত হতে হবে বাস্তবসম্মত নগদ প্রবাহ, ঋণগ্রহীতার নিজস্ব অবদান এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন।
অন্যদিকে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে সম্পদ শনাক্তকরণ, আইনসম্মতভাবে সম্পদ জব্দ বা ক্রোক, ঋণ আদায়ের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতারণার প্রমাণ থাকলে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রমে গতি আনতে বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে।
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট বা ব্যবসায়িক সুবিধা সীমিত করার মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা হলে তা অবশ্যই সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করে প্রয়োগ করতে হবে। শুধু ঋণ অনাদায়ি হওয়ার কারণে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতাকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।
দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন ও আমানতকারীর সুরক্ষা। দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে একীভূতকরণ নিজে কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। একটি দুর্বল ব্যাংকের অনাদায়ি ঋণ ও দায় যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া অন্য ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করা হলে সংকট নতুন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাই প্রথমে ব্যাংকের সম্পদ, দায়, মূলধন, আমানত এবং ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। যেসব ব্যাংক পুনরুদ্ধারযোগ্য, তাদের জন্য সময়সীমাবদ্ধ পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। আর যেসব ব্যাংক কার্যকরভাবে পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়, তাদের ক্ষেত্রে আইনসম্মতভাবে পুনর্গঠন, অধিগ্রহণ কিংবা অবসায়নের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
এই প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র আমানতকারীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতার দায় সাধারণ আমানতকারীর ওপর নির্বিচারে চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার অর্থায়ন, আওতা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের আর্থিক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এর আওতায় আমানত সুরক্ষা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা, জরুরি তারল্য সহায়তার কাঠামো এবং ব্যাংক পুনর্গঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে বিদেশি অর্থায়ন বা কারিগরি সহায়তা কেবল সংস্কারের উপকরণ। এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়নের ওপর।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ও আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। ব্যাংকিং খাতের স্থায়ী সংস্কারে প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সমন্বিত ঋণতথ্য, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি মূল্যায়ন, লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনিয়মের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব। একই ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কত ঋণ নিচ্ছে, তাদের মোট দায় কত এবং ঋণ পরিশোধের ইতিহাস কেমন—এসব তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে প্রযুক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরতা সমাধান নয়। তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাযোগ্যতা এবং মানবিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সংরক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। আধুনিক ব্যাংকিংয়ে আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা পরস্পরের পরিপূরক।
সামষ্টিক অর্থনীতির সংস্কার: ব্যাংকের বাইরেও সমাধান। ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার যথেষ্ট নয়। মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের দুর্বলতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতাও ব্যাংকের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
আমানতকারীদের সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য রক্ষায় সুদের হার নীতি ও মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক বিবেচনা করতে হবে। আমানতের সুদের হার দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতির তুলনায় অনেক কম থাকলে ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রণোদনা দুর্বল হতে পারে। তবে শুধু আমানতের সুদের হার বাড়ালেই সমাধান হবে না; এতে ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের ব্যয় বাড়ে এবং ঋণের সুদও বেড়ে যেতে পারে। তাই মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকের ঋণনীতির মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন।
সরকারি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করলে দেশীয় মুদ্রার তারল্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে; তবে সেই প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সময়ে অন্যান্য আর্থিক লেনদেন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির ওপরও। তাই ডলার বিক্রিকে এককভাবে ব্যাংকিং খাতের তারল্যসংকটের কারণ বলা যথাযথ নয়।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: শিক্ষা নিতে হবে, অনুকরণ নয়। দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের পর দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অনাদায়ি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং তদারকি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়। তাদের অভিজ্ঞতা দেখায়, দুর্বল ঋণসম্পদ আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন একসঙ্গে পরিচালনা করা জরুরি।
ভারত ২০১৬ সালে দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া নিষ্পত্তি বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে করপোরেট ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায় নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কাঠামো চালু করে। তবে আইন প্রণয়ন করলেই সব সমস্যা সমাধান হয় না; মামলা নিষ্পত্তির সময়, সম্পদের মূল্য, ঋণদাতাদের সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের দক্ষতা ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হলো, ঋণ আদায়কে দ্রুত ও কার্যকর করার পাশাপাশি পুনরুদ্ধারযোগ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার সুযোগ দিতে হবে। অকার্যকর প্রতিষ্ঠানকে অনির্দিষ্টকাল সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার পরিবর্তে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত সমাধান গ্রহণ করতে হবে।
সাময়িক স্বস্তি নয়, প্রয়োজন স্থায়ী নিরাময়। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট কোনো একক নীতি কিংবা স্বল্পমেয়াদি অর্থসহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। তারল্য সহায়তা তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে পারে, কিন্তু খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে না। ঋণ পুনঃতফসিল কিছু প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তা অনাদায়ি ঋণ আড়াল করার কৌশলে পরিণত হলে সংকট আরও গভীর হবে। একইভাবে, দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা তখনই কার্যকর হবে, যখন এর আগে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ এবং দায় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
সংস্কারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ব্যাংকভিত্তিক আর্থিক মূল্যায়ন ও প্রকৃত ক্ষতির স্বীকৃতি। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার খেলাপি ঋণ আদায়ে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা। তৃতীয় অগ্রাধিকার দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, আমানতকারীর সুরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি। দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ, প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আইনের সমান প্রয়োগ।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের উচিত সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত কমল, প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ আদায় হলো, মূলধনের ঘাটতি কতটা পূরণ হলো এবং দুর্বল ব্যাংকের আমানতকারীরা কতটা স্বাভাবিক সেবা পাচ্ছেন—এসব সূচকের ভিত্তিতে সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে।
ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত সুস্থতা কেবল খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে যাওয়া কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় ব্যাংকগুলোকে সচল রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সুস্থতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন ব্যাংক নিয়ম মেনে ঋণ দেবে, ঋণগ্রহীতা দায়িত্বশীলভাবে অর্থ ফেরত দেবেন, আমানতকারী তাঁর সঞ্চয়ের নিরাপত্তা পাবেন এবং উৎপাদনশীল উদ্যোক্তা ন্যায্য শর্তে অর্থায়ন লাভ করবেন।
ব্যাংকিং খাতকে সংকটমুক্ত করার জন্য তাই অর্থের জোগানের পাশাপাশি অর্থের সঠিক ব্যবহার, ঋণ আদায়ের কার্যকারিতা, আমানতকারীর নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বাধীন তদারকি ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ছাড়া এই সংস্কার পূর্ণতা পাবে না। সাময়িক সহায়তা সংকটের চাপ কমাতে পারে; কিন্তু স্থায়ী নিরাময় আসবে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল ঋণ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই।

