Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, অক্টো. 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ব্যাংক একীভূতকরণ: দুর্বলকে বাঁচানোর চেষ্টা নাকি সবলকে দুর্বল করার ফাঁদ?
    ব্যাংক

    ব্যাংক একীভূতকরণ: দুর্বলকে বাঁচানোর চেষ্টা নাকি সবলকে দুর্বল করার ফাঁদ?

    নিউজ ডেস্কঅক্টোবর 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একটি দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ সচল রাখতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভূমিকা অপরিসীম। জনগণের সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর, শিল্পের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাণিজ্যের গতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এই ব্যবস্থার ভিত্তি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তার অভিঘাত শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ছড়িয়ে পড়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জন জীবনের প্রতিটি স্তরে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ, ঋণ বিতরণে অনিয়ম, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ঋণকেন্দ্রীকরণ, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল তদারকির মতো সমস্যার মুখোমুখি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব সমস্যার গভীরতা নতুন করে সামনে আসে। সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংক একীভূতকরণকে অন্যতম নীতিগত হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

    তবে প্রশ্ন উঠেছে, আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেই কি সংকটের সমাধান হবে? নাকি অনিয়মে জর্জরিত ব্যাংকের বিপুল দায় অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে?

    এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠনের পর। কারণ, এই উদ্যোগের সফলতা শুধু একটি নতুন ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে না; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোটি কোটি মানুষের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা। ব্যাংক একীভূতকরণ নিজে কোনো সমাধান নয়; বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর আর্থিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে সমাধান অর্জনের একটি পদ্ধতি।

     বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা: একীভূতকরণ কখন সফল হয়? আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একীভূতকরণ একটি পরিচিত কৌশল। কখনো ব্যবসা সম্প্রসারণ, কখনো পরিচালন ব্যয় হ্রাস, আবার কখনো আর্থিক সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে সব একীভূতকরণের উদ্দেশ্য কিংবা ফলাফল এক নয়।

    ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পুনর্বিন্যাসের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, একীভূতকরণের মাধ্যমে বৃহত্তর কার্যক্রম, বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তি এবং সমন্বিত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ব্যাংকের আকার বৃদ্ধি পেলেই খেলাপি ঋণ কমে যায় কিংবা পরিচালন দক্ষতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না। এসব অর্জনের জন্য প্রয়োজন কার্যকর ঋণ ব্যবস্থাপনা, মূলধনের পর্যাপ্ততা এবং জবাবদিহিমূলক পরিচালনা।

    ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের পর মালয়েশিয়াও ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠনে একীভূতকরণ, আর্থিক পুনর্বাসন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সংস্কার গ্রহণ করে। সেখানে একীভূতকরণ বৃহত্তর পুনর্গঠন কর্মসূচির একটি অংশ ছিল; একমাত্র সমাধান ছিল না।

    এসব অভিজ্ঞতা থেকে দুটি শিক্ষা পাওয়া যায়। প্রথমত, সংকটাপন্ন ব্যাংককে একীভূত করার আগে তার সম্পদ, দায় ও সম্ভাব্য লোকসানের প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, একীভূতকরণের পরও দীর্ঘমেয়াদি তদারকি, মূলধন পুনর্গঠন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই বিদেশি অভিজ্ঞতা অনুসরণের অর্থ কেবল ব্যাংকের সংখ্যা কমানো নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতার পেছনে থাকা আর্থিক শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।

    বাংলাদেশের বাস্তবতা: পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ ও সংকটের ব্যাপ্তি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একীভূতকরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন। ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

    দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্বলতা, তারল্যসংকট এবং ঋণ আদায়ে সমস্যার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে এসব ব্যাংকের পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় একীভূতকরণের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু একাধিক দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে একত্র করা মানেই তাদের সম্মিলিত আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া নয়। বরং পৃথক ব্যাংকের সমস্যা এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হলে তার সমাধানের দায়িত্বও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ টাকা ঋণের বিপরীতে প্রায় ৩২ টাকা ৭৮ পয়সা খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই হার ছিল ৩৫.৭৩ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান একদিকে সংকটের ব্যাপ্তি নির্দেশ করে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতা শনাক্ত করার গুরুত্বও তুলে ধরে। খেলাপি ঋণের হার কিছুটা কমলেও বিপুল পরিমাণ অনাদায়ি ঋণ এখনো আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশের সব ব্যাংকের অবস্থা এক নয়। কোনো ব্যাংক তুলনামূলকভাবে সুস্থ, কোনোটি মূলধনসংকটে, আবার কোনোটি তারল্য ও সম্পদের গুণগত মান—উভয় ক্ষেত্রেই দুর্বল। সুতরাং সব ব্যাংকের জন্য একই ধরনের সমাধান গ্রহণ না করে প্রতিষ্ঠানভেদে আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

    দুর্বল ব্যাংককে রক্ষার পক্ষে যুক্তি: ব্যাংক একীভূতকরণের প্রধান যুক্তি হলো, সংকটাপন্ন কোনো ব্যাংকের পতন যাতে আমানতকারী ও বৃহত্তর অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত না করে, তা নিশ্চিত করা। একটি ব্যাংকের আর্থিক দুরবস্থা দীর্ঘায়িত হলে গ্রাহকের অর্থ উত্তোলন, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং নতুন ঋণ বিতরণে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

    প্রথমত, একীভূতকরণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার সুযোগ তৈরি করে। পরিকল্পিত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখা এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, স্পষ্ট নীতিমালা এবং বাস্তবসম্মত সময়সীমা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, একাধিক ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বিত হলে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকে। একই ধরনের প্রযুক্তি, হিসাবব্যবস্থা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা একীভূত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা বাড়তে পারে।

    তৃতীয়ত, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়। কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে গ্রাহকেরা একসঙ্গে অর্থ তুলে নিতে পারেন। এই প্রবণতা অন্য ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়লে তারল্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে। নিয়ন্ত্রিত পুনর্গঠন এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। চতুর্থত, একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। পুরোনো অনিয়ম শনাক্ত করে নতুন তদারকি ব্যবস্থা চালু করা গেলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে।

    তবে এসব সুবিধা অর্জনের জন্য একীভূতকরণকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু নতুন নাম, নতুন পরিচালনা পর্ষদ কিংবা নতুন সাংগঠনিক কাঠামো দিয়ে আর্থিক সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

     সবল ব্যাংককে দুর্বল করার ঝুঁকি কোথায়? ব্যাংক একীভূতকরণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, দুর্বল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি নতুন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। কোনো ব্যাংকের সম্পদের বড় অংশ যদি অনাদায়ি ঋণে আটকে থাকে, তাহলে হিসাবের খাতায় সেই সম্পদ থাকলেও বাস্তবে তা থেকে প্রত্যাশিত অর্থ পাওয়া নাও যেতে পারে। অন্যদিকে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় বহাল থাকে। ফলে সম্পদের প্রকৃত মূল্য ও দায়ের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের মূলধন ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    ধরা যাক, একটি সুস্থ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, একটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেই হার ২০ শতাংশ। এই দুই ব্যাংককে একত্র করা হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার সরলভাবে ১২.৫ শতাংশ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃত অনুপাত নির্ভর করবে দুই ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ, সম্পদের গঠন এবং একীভূতকরণের শর্তের ওপর। এখানে মূল সমস্যা শুধু খেলাপি ঋণের হার নয়; বরং সেই ঋণ থেকে অর্থ আদায়ের বাস্তব সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য লোকসান সামাল দেওয়ার মতো মূলধন রয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

    আরেকটি ঝুঁকি হলো, দুর্বল ব্যাংকের সমস্যার কারণে সুস্থ প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণ সক্ষমতা কমে যেতে পারে। পুনর্গঠনের ব্যয় বহন করতে গিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান যদি উৎপাদনশীল ব্যবসা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারায়, তাহলে সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তি, কর্মসংস্কৃতি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একত্র করা সহজ নয়। অপরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা স্থানান্তর, জনবল পুনর্বিন্যাস কিংবা শাখা সমন্বয় করা হলে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হতে পারে। সুতরাং একীভূতকরণের আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য যাচাই এবং পরবর্তী সময়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

     আমানতকারীদের অর্থ: নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু। ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ থাকা এবং প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করতে পারা। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ উত্তোলন ও মুনাফা প্রাপ্তি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা এই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

    ২০২৫ সালের শেষদিকে ঘোষিত পুনর্গঠন পরিকল্পনার আওতায় আমানত ফেরতের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের মূল আমানত উত্তোলনের সুযোগ স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অর্থ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা জানানো হয় ৭ সেপ্টেম্বর থেকে।

    মুনাফা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন ঘটে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত মেয়াদি ও কিস্তিভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই নির্দিষ্ট হারে মুনাফা সীমিত রাখার নির্দেশনা প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যকর মুনাফার হার অনুযায়ী হিসাব পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেয়। আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্পষ্ট করে জানায়, আমানতকারীদের প্রাপ্য মুনাফায় কোনো কর্তন করা হবে না।

    এই পরিবর্তন দেখায়, আর্থিক পুনর্গঠনের সময় আমানতকারীদের অধিকার ও ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নীতিগত ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের অগ্রগতি, মুনাফা পুনর্নির্ধারণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির তথ্য প্রকাশ করা হলে অনিশ্চয়তা কমবে। একই সঙ্গে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার সীমা, আওতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। কারণ, সব আমানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই মাত্রার সুরক্ষার আওতায় পড়ে—এমন ধারণা তৈরি হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।

     ব্যাংক রেজল্যুশন আইন: সুশাসনের পরীক্ষা। সংকটাপন্ন ব্যাংকের পুনর্গঠনকে কার্যকর করার জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়। তবে আইনটির একটি বিধান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    বিতর্কিত ১৮ক ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে সাবেক মালিক বা পরিচালকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিয়োগ করা অর্থের ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং বাকি অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ পরিশোধের শর্তে পুনরায় মালিকানা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারত।

    সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, যেসব মালিকানা গোষ্ঠীর সময়ে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে, তাদের আবার নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ দিলে পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধন করে ১৮ক ধারাটি বাতিল করে। ফলে ওই ধারার মাধ্যমে সাবেক মালিকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার বিশেষ সুযোগটি আর বহাল থাকেনি।

    এই পরিবর্তন জবাবদিহির দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু একটি বিধান বাতিল করলেই সুশাসন নিশ্চিত হয় না। ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অনিয়মের তদন্ত, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি কার্যক্রমে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

    সমাধানের পথ: একীভূতকরণের আগে ও পরে কী করতে হবে? বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একীভূতকরণকে সফল করতে হলে কয়েকটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, স্বাধীন সম্পদ ও দায় পর্যালোচনা করতে হবে। একীভূতকরণের আগে প্রতিটি ব্যাংকের ঋণ, জামানত, বিনিয়োগ, মূলধন এবং সম্ভাব্য লোকসানের নির্ভরযোগ্য হিসাব তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্বাধীন নিরীক্ষক দিয়ে সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনা করাতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, খারাপ ঋণ পুনরুদ্ধারের পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সব দুর্বল ব্যাংকের অনাদায়ি ঋণ সরাসরি নতুন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বা বিশেষায়িত পুনরুদ্ধার কাঠামোর মাধ্যমে সেগুলোর আদায় পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাই করা উচিত। তবে এমন ব্যবস্থা গড়তে হলে এর অর্থায়ন, সম্পদ কেনার মূল্য, আইনি ক্ষমতা ও জবাবদিহি আগে নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    চতুর্থত, সরকারি অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ করতে হবে। ব্যাংক পুনর্গঠনে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা হলে তার পরিমাণ, উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশিত সুফল প্রকাশ করতে হবে। নিয়মিত নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, জনগণের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। পঞ্চমত, নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামো স্বাধীন রাখতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, সততা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রভাবের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনের সুযোগ সীমিত করতে হবে।

    ষষ্ঠত, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, গ্রাহকের হিসাব এবং ঋণের নথি নিরাপদভাবে একত্র করতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। সপ্তমত, নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি পূরণ, আমানত ফেরত, পরিচালন ব্যয় এবং সেবার মান—প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে পুনর্গঠনের সফলতা পরিমাপ করা সহজ হবে।

    অষ্টমত, একীভূতকরণের বিকল্পও বিবেচনা করতে হবে। সব সংকটাপন্ন ব্যাংকের জন্য একই সমাধান উপযুক্ত নয়। কোনো ব্যাংকের কার্যক্রম বা ভালো সম্পদ অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা, সাময়িকভাবে সেতু-ব্যাংকের মাধ্যমে কার্যক্রম সচল রাখা কিংবা প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রিত অবসায়ন—প্রতিটি বিকল্পের ব্যয় ও সুফল তুলনা করা উচিত।

     ব্যাংকের আকার নয়, আস্থাই শেষ কথা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন প্রয়োজন। তবে সেই পুনর্গঠনের সফলতা নির্ভর করবে না শুধু কতগুলো ব্যাংককে একীভূত করা হলো কিংবা নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ কত বড় হলো, তার ওপর। প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে আমানতকারীদের অর্থ কতটা নিরাপদ থাকল, খেলাপি ঋণ কতটা আদায় হলো, আর্থিক অনিয়মের জন্য দায়ীরা কতটা জবাবদিহির আওতায় এলেন এবং নতুন প্রতিষ্ঠান কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হলো—এসব সূচকের ভিত্তিতে।

    পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই উদ্যোগ সফল হলে তা সংকটাপন্ন ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। কিন্তু আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত হিসাব গোপন রাখা হলে, ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কিংবা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নতুন প্রতিষ্ঠানও পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তাই একটি মৌলিক শিক্ষা দেয়: সংকটাপন্ন ব্যাংককে বাঁচানোর প্রয়োজন যেমন রয়েছে, তেমনি সুস্থ ব্যাংককে অযৌক্তিক আর্থিক বোঝা থেকে রক্ষা করাও সমান জরুরি। একীভূতকরণের ব্যয় ও দায় বণ্টনে ন্যায়সংগত নীতি অনুসরণ করতে হবে, যাতে সাধারণ আমানতকারী কিংবা উৎপাদনশীল অর্থনীতিকে অন্যের অনিয়মের মূল্য দিতে না হয়।

    একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে স্বল্পমেয়াদি উদ্ধার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ঋণ অনুমোদনে শৃঙ্খলা, স্বাধীন তদারকি, নিয়মিত নিরীক্ষা, কার্যকর বিচারব্যবস্থা এবং আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

    শেষ পর্যন্ত ব্যাংক একীভূতকরণের সাফল্য নির্ভর করবে একটি প্রশ্নের উত্তরের ওপর—এই প্রক্রিয়া কি অনিয়মের দায় আড়াল করছে, নাকি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক করে তুলছে? দুর্বল ব্যাংককে বাঁচানোর উদ্যোগ তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা সবল ব্যাংকের ভিত্তি দুর্বল না করে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। আর সে লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র টেকসই পথ হলো—সুশাসন, স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের আমানতের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    পর্যটকের জীবন কি এতই সস্তা? টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের দায় কার?

    অক্টোবর 18, 2026
    ব্যাংক

    ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি থেকে ঋণ পেতে তরুণ উদ্যোক্তাদের ঢল, আট জেলায় ১৮ হাজার আবেদন

    অক্টোবর 18, 2026
    ব্যাংক

    মানি চেঞ্জার ও সোনার ব্যবসায় নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

    অক্টোবর 17, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.