বাংলাদেশে বিদেশিদের কার্ডে ব্যয়ের তুলনায় বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ প্রায় চার গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশিরা বাংলাদেশে তাঁদের কার্ড ব্যবহার করে ব্যয় করেছেন প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যয় ছিল প্রায় ৯৮৫ কোটি টাকা, যা আগস্টে বেড়ে ৯৮৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিদেশিদের কার্ডে ব্যয় এক মাসে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ২৩৪ কোটি টাকা থেকে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
আগস্টে বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় হয়েছে ৫০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ডেবিট কার্ডে খরচ হয়েছে ৪২২ কোটি ১০ লাখ এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে হয়েছে মোট বৈদেশিক ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুর।
ডেবিট কার্ড ব্যবহারে শীর্ষে ছিল যুক্তরাজ্য। সেখানে হয়েছে মোট বৈদেশিক ডেবিট কার্ড লেনদেনের ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রিপেইড কার্ডে সবচেয়ে বেশি ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ভারতে।
বিদেশে কার্ডে ব্যয় বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন কমেছে। জুলাইয়ে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়, যা এক মাসে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম।
দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের মোট লেনদেনের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। রিটেইল আউটলেটে হয়েছে ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। নগদ টাকা উত্তোলনে ব্যয় হয়েছে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
তবে রিটেইল আউটলেটে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন জুলাইয়ের ৪৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে আগস্টে ৫১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ইউটিলিটি বিল, ওষুধ, পোশাক ও পরিবহন খাতেও লেনদেন বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে ডেবিট কার্ড ছিল ২ কোটি ৪২ লাখ ২৫ হাজার, ক্রেডিট কার্ড ১৭ লাখ ৬৩ হাজার এবং প্রিপেইড কার্ড ১০ লাখ ২৭ হাজার।
২০২৬ সালের আগস্টে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ৮৭ হাজার, ক্রেডিট কার্ড ২৮ লাখ ৫ হাজার এবং প্রিপেইড কার্ড ৯২ লাখ ৭১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে কার্ড লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৩ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা।
আগস্ট শেষে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এ সময়ে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। কার্ডের পাশাপাশি বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবহার করে লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।
কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেন বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারের চিত্র তুলে ধরছে।

