বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত এক বছরে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালের আগস্টে ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামী শাখা ও উইন্ডো। বিপরীতে, পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামী শাখায় আমানত এক বছরে ৩২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৫১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। একই সময়ে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামী উইন্ডোতে আমানত বেড়েছে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগস্টে এসব উইন্ডোতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, দেশের ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে আমানত গত বছরের আগস্টের ৩ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে চলতি বছরের আগস্টে ৩ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। এতে এক বছরে আমানত কমেছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে মাসিক হিসাবে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে এসব ব্যাংকে আমানত ০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আওতায় রয়েছে। বাকি ৭৯ দশমিক ২৪ শতাংশ আমানত প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা ১০টি। এ ছাড়া ১৭টি প্রচলিত ব্যাংক ইসলামী শাখার মাধ্যমে এবং ২১টি ব্যাংক ইসলামী উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানত কমলেও প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামী শাখা ও উইন্ডোতে আমানত বৃদ্ধির প্রবণতা ইসলামী ব্যাংকিং সেবার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

