ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তুলেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসি। পরিবেশবান্ধব সনদপ্রাপ্ত এই কারখানার কাছে সুদসহ ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি। এই অর্থ আদায়ের জন্যই ব্যাংকটি নিলামের পথে হেঁটেছে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পাওনা দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৯ টাকা। খেলাপি এই ঋণ আদায়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত কারখানাটির মোট ৬০ দশমিক ৫০ ডেসিমাল জমি এবং তার ওপর নির্মিত ও নির্মাণাধীন সব স্থাপনা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে এমটিবি। এ লক্ষ্যে একটি জাতীয় দৈনিকে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে সিলমোহর করা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমটিবির প্রিন্সিপাল শাখা থেকে প্লামি ফ্যাশনসের নামে নেওয়া ঋণের বিপরীতেই ব্যাংকের এই পাওনা তৈরি হয়েছে। অর্থঋণ আদালত আইনের এই ধারায় খেলাপি ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যাংক তার পাওনা আদায় করতে পারে।
নিলামে তোলা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে দুটি জমি। এর একটির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫০ ডেসিমাল এবং অন্যটির ৩২ ডেসিমাল। দুটি মিলিয়ে ৬০ দশমিক ৫০ ডেসিমাল জমি এবং এর ওপরের সব ধরনের স্থাপনা বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতাদের আগামী ১৭ নভেম্বর বিকেল ৩টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে।
প্লামি ফ্যাশনস দেশের তৈরি পোশাক খাতের একটি পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে আন্তর্জাতিক সনদ পেয়েছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থার জন্য সুনাম থাকা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বন্ধকী সম্পত্তি ঋণ আদায়ে নিলামে ওঠায় বিষয়টি এখন ব্যবসায়ী মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আলোচনার বড় কারণ হলো প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ফজলুল হকের পরিচিতি। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দাবির মুখে গত আগস্টে তিনি এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা এবং প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া তিনি নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে আইসিসি বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফজলুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টির বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ফলে ঋণ পরিশোধ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান কী, তা এখনো জানা যায়নি।
ঘটনাটি দেশের ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ও ঋণ-সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। যিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হয়ে নিলাম পর্যন্ত গড়ানো সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে ব্যবসায় ঋণ নেওয়া ও নানা কারণে তা সময়মতো শোধ করতে না পারার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কারণ ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এর পেছনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর আইনি পদক্ষেপ যে অব্যাহত আছে, এই নিলাম তারই একটি উদাহরণ।
উল্লেখ্য, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থ এই নয় যে সম্পত্তি চূড়ান্তভাবে বিক্রি হয়ে গেছে। দরপত্র জমা ও মূল্যায়নের পর ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ সমন্বয়ের সুযোগ থাকলে তারা সেই পথেও যেতে পারে। এ বিষয়ে প্লামি ফ্যাশনস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।

