Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, নভে. 5, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » হ্যাকারদের রুখতে কতটা প্রস্তুত আমাদের ব্যাংকগুলো?
    ব্যাংক

    হ্যাকারদের রুখতে কতটা প্রস্তুত আমাদের ব্যাংকগুলো?

    নিউজ ডেস্কনভেম্বর 4, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা এখন আর কোনো ঐচ্ছিক প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়; বরং ব্যাংকিং ব্যবস্থার অস্তিত্ব, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল সেবা, আর্থিক প্রযুক্তি এবং মোবাইল আর্থিক লেনদেনের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। একসময় ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়ে যে কাজ সম্পন্ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন তার অনেক কিছুই কয়েক মিনিটে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে।

    কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই তৈরি হয়েছে নতুন বিপদ। ব্যাংকের অর্থভান্ডার এখন শুধু ভল্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, হিসাবের বিবরণ, লেনদেনের নির্দেশনা এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি সংরক্ষিত হচ্ছে আন্তসংযুক্ত ডিজিটাল ব্যবস্থায়। ফলে অপরাধীদের কাছে ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার নতুন নতুন পথ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধীরা এখন প্রচলিত পাসওয়ার্ড চুরি কিংবা সাধারণ ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় আক্রমণ, পরিচয় জালিয়াতি, তথ্য আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি এবং আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তারা আরও সংগঠিতভাবে আক্রমণ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতও এসব ঝুঁকির বাইরে নয়। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মহড়ায় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা শনাক্ত হওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বীকারোক্তি যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখনো প্রত্যাশিত নিরাপত্তা সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি, তা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং আক্রমণের পর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য কতটা প্রস্তুত?

    ২০১৬ সালের রিজার্ভ চুরি: যে সতর্কবার্তা এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তার ইতিহাসে ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরব্যবস্থা সুইফটের সঙ্গে সংযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে হ্যাকাররা ভুয়া অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ পাঠায়। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো প্রায় ২ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ফিলিপাইনে চলে যাওয়া প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।

    ঘটনাটি বিশ্বব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্যও বড় সতর্কবার্তা ছিল। কারণ, আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং লেনদেন যাচাইয়ের দুর্বলতা কীভাবে বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    এই ঘটনার পর ব্যাংকিং খাতে তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় এক দশক পরও মূল প্রশ্নটি পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি—দেশের সব ব্যাংক কি একই মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছে? বড় ব্যাংকগুলোর কিছু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হলেও ছোট, মাঝারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সাইবার আক্রমণের ধরন বদলাচ্ছে, ঝুঁকিও বহুমাত্রিক। বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সাইবার অপরাধের প্রধান লক্ষ্য শুধু অর্থ চুরি নয়। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ, লেনদেনব্যবস্থা অচল করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াও অপরাধীদের উদ্দেশ্য হতে পারে।

    ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যাংকের কম্পিউটার ও সার্ভারে প্রবেশ করা একটি প্রচলিত কৌশল। অন্যদিকে ফিশিংয়ের মাধ্যমে ভুয়া ই-মেইল, বার্তা বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কর্মী কিংবা গ্রাহকের গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস বা ডিডস আক্রমণে বিপুল পরিমাণ ভুয়া অনুরোধ পাঠিয়ে কোনো ব্যাংকের অনলাইন সেবা অচল করে দেওয়া সম্ভব।

    র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণে অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের তথ্য আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। এসকিউএল ইনজেকশনের মতো কৌশলে ওয়েবসাইট বা তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তার ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সংরক্ষিত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া কর্মীদের পরিচয় চুরি, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং অনিরাপদ তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিগত সংযোগও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

    বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব অপরাধকে আরও জটিল করে তুলেছে। অপরাধীরা পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে ভুয়া নির্দেশনা পাঠাতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসংখ্য সম্ভাব্য নিরাপত্তা দুর্বলতা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে শুধু ফায়ারওয়াল বা অ্যান্টিভাইরাস স্থাপন করে ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। প্রয়োজন সমন্বিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং দ্রুত আক্রমণ শনাক্ত করার সক্ষমতা।

    বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় জালিয়াতির পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের পেমেন্ট সিস্টেমস প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর মোবাইল আর্থিক সেবা, চেকভিত্তিক লেনদেন এবং কার্ড লেনদেন মিলিয়ে মোট ৮১ হাজার ৪২৩টি জালিয়াতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৮২ কোটি ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ মোট ক্ষতিগ্রস্ত অর্থের মাত্র ১০ দশমিক ৭ শতাংশের মতো উদ্ধার হয়েছিল।

    বিশেষভাবে মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে জালিয়াতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা যায়নি। অর্থাৎ এ খাতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থের প্রায় ৯১ দশমিক ৩ শতাংশই অনুদ্ধারকৃত থেকে গেছে।

    এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, সব জালিয়াতি সরাসরি ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করার মাধ্যমে সংঘটিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক ফোনকল, ভুয়া পরিচয়, এককালীন গোপন নম্বর সংগ্রহ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহককে ফাঁদে ফেলা হয়। কিন্তু অপরাধের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও এসব ঘটনা ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং গ্রাহকের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এত বিপুলসংখ্যক ঘটনায় অর্থ উদ্ধারের হার কম থাকা শুধু অপরাধীদের তৎপরতার পরিচয় নয়; এটি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ, দ্রুত হিসাব স্থগিত করা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো। সাইবার নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ ‘সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো, সংস্করণ ১.০ (২০২৬)’ প্রকাশ করে। এর আওতায় তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাঠামোটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন কাঠামোটি মূলত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যনিরাপত্তা নীতিমালা ও ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি। এতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—ঝুঁকি ও সম্পদ শনাক্তকরণ, সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আক্রমণ শনাক্ত করা, আক্রমণ মোকাবিলা করা, স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন তৈরি।

    প্রথম পর্যায়ে ব্যাংককে তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার, সার্ভার, নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত সম্পদ চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর অস্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত, আক্রমণের সময় ক্ষতি সীমিত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। কারণ, ব্যাংকগুলো এখন বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার সরবরাহকারী এবং বহিরাগত সেবাদাতার ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দুর্বল হলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকেও পড়তে পারে।

    নীতিগতভাবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে নির্দেশনা প্রকাশের চেয়ে কঠিন কাজ হলো বাস্তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর করা। ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা কাগজে ভালো দেখালেই হবে না; বাস্তব আক্রমণের মুখে তা কতটা কার্যকর, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষার বিষয়।

    নিরাপত্তা মহড়ায় ধরা পড়েছে প্রস্তুতির ঘাটতি। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জুনের শেষ দিকে পরিচালিত একটি সাইবার নিরাপত্তা মহড়ায় এমন এক বা দুটি দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো বড় ব্যাংক বা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে পৌঁছাতে পারেনি।

    এ বক্তব্যের গুরুত্ব অনেক। কারণ, কোনো ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তা নিরীক্ষায় সবকিছু ঠিক দেখালেও বাস্তবভিত্তিক আক্রমণ অনুশীলনে প্রকৃত দুর্বলতা বেরিয়ে আসতে পারে। মহড়ার উদ্দেশ্যই হলো, অপরাধীরা আক্রমণ করার আগেই সম্ভাব্য প্রবেশপথ এবং প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা।

    একই অনুষ্ঠানে সাইবার ঘটনা প্রতিবেদন ব্যবস্থা এবং জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি সামনে আসে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা দ্রুত জানানো, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে ২০২৬ সালের ১৬ মে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা মহড়ায় ৬৮টি দল অংশ নেয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় ঝুঁকি নিরীক্ষা, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, তথ্যসংকেতায়ন, ওয়েব নিরাপত্তা, আক্রমণ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মহড়ায় অংশগ্রহণ বা প্রতিযোগিতায় সাফল্যই কোনো ব্যাংকের সার্বিক নিরাপত্তার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রয়োজন নিয়মিত পরীক্ষা এবং শনাক্ত হওয়া প্রতিটি দুর্বলতার কার্যকর সমাধান।

    পুরোনো প্রযুক্তি ও অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের সমস্যা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অসম আধুনিকায়ন। সব ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবল সমান নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পুরোনো সফটওয়্যার ও সীমিত নিরাপত্তা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।

    পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম, দীর্ঘদিন হালনাগাদ না করা সফটওয়্যার এবং দুর্বল ওয়েব সার্ভার হ্যাকারদের জন্য প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা হালনাগাদ সময়মতো না করলে পরিচিত দুর্বলতাও বড় আক্রমণের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যয়ের বড় অংশ পরিচালনাগত কাজে ব্যবহৃত হলেও নিরাপত্তা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সব সময় নিশ্চিত হয় না। আধুনিক ফায়ারওয়াল, তথ্য ফাঁস প্রতিরোধব্যবস্থা, বিশেষ প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে শুধু অর্থ ব্যয় করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। কোন প্রযুক্তি কেনা হচ্ছে, সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে আলাদা সাইবার নিরাপত্তা বাজেট থাকা প্রয়োজন।

    সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্যাংকের সার্ভারে আক্রমণ হচ্ছে কি না, কোন লেনদেন অস্বাভাবিক, কোন কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা চলছে—এসব বিষয় শনাক্ত করতে বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন। সাইবার নিরাপত্তা প্রকৌশলী, হুমকি বিশ্লেষক, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার ঘাটতি থাকলে আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন।

    এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কর্মীদের অসতর্কতা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। একটি ভুয়া ই-মেইলের সংযুক্তি খোলা, অপরিচিত লিংকে প্রবেশ করা কিংবা অন্যের সঙ্গে গোপন পাসওয়ার্ড ভাগাভাগি করার মাধ্যমে অপরাধীরা ব্যাংকের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। কখনো কর্মীর পরিচয় চুরি করেও অপরাধীরা বৈধ ব্যবহারকারীর মতো সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। তাই শুধু বাহ্যিক আক্রমণ প্রতিরোধ নয়, প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেও তথ্য ও প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রস্তুতির পার্থক্য। দেশের সব ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতাকে একই মানদণ্ডে বিচার করা যায় না। বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অনেকেই আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত তথ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ জনবল নিয়োগে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রেও কর্মীদের অসচেতনতা, বহিরাগত সেবাদাতার ওপর নির্ভরতা এবং জটিল ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, বড় আকারের তথ্যভান্ডার ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়গুলো বিশেষ চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে নতুন ও তুলনামূলক ছোট ব্যাংকগুলোর জন্য উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যয় বহন এবং নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দল গড়ে তোলা কঠিন হতে পারে। তবে কোনো ব্যাংককে শুধু মালিকানার ধরন বা আকারের ভিত্তিতে নিরাপদ কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বলা ঠিক নয়। প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষা, বাস্তবভিত্তিক আক্রমণ পরীক্ষা এবং দুর্বলতা সংশোধনের অগ্রগতি প্রকাশ।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: নিরাপত্তার নতুন সম্ভাবনা ও বিপদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক লেনদেনের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্ত করা, সন্দেহজনক হিসাব চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য প্রতারণার আগাম সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। তবে অপরাধীরাও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কণ্ঠস্বর নকল, ভুয়া পরিচয় তৈরি, বিশ্বাসযোগ্য প্রতারণামূলক বার্তা এবং স্বয়ংক্রিয় আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে তারা নিরাপত্তাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

    এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তানীতি প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানায়। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত যাচাই, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

    নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে সাইবার অপরাধীদের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে রাখতে হলে কয়েকটি ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমত, প্রতিটি ব্যাংকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। ব্যাংকের সার্ভার, নেটওয়ার্ক, তথ্যভান্ডার এবং আর্থিক লেনদেনের অস্বাভাবিকতা দিন-রাত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, জিরো ট্রাস্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করা যাবে না। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বহুমাত্রিক পরিচয় যাচাই ও বিশেষ প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা জরুরি।

    তৃতীয়ত, নিয়মিত দুর্বলতা মূল্যায়ন ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ব্যাংকের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার এবং নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পরও পুনরায় নিরাপত্তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। চতুর্থত, তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। মূল তথ্যভান্ডারের বাইরে নিরাপদ স্থানে তথ্যের বিকল্প অনুলিপি রাখতে হবে। শুধু অনুলিপি তৈরি করলেই হবে না; নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করতে হবে যে প্রয়োজনের সময় এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংকের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব কি না।

    পঞ্চমত, কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক ফিশিং পরীক্ষা চালু করতে হবে। কোন বার্তা প্রতারণামূলক, কোন লিংক বিপজ্জনক এবং কীভাবে সন্দেহজনক কার্যক্রম জানাতে হয়, তা প্রত্যেক কর্মীকে শেখাতে হবে। ষষ্ঠত, ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাইবার হুমকির তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একটি প্রতিষ্ঠানে নতুন ধরনের আক্রমণ শনাক্ত হলে অন্য ব্যাংকগুলোও যেন দ্রুত সতর্ক হতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    সপ্তমত, গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ ও অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে। প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাব ও লেনদেন যাচাই, প্রয়োজন হলে অর্থ স্থানান্তর স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অষ্টমত, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যয়কে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের আমানত সুরক্ষার বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

    জবাবদিহি ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। সাইবার নিরাপত্তা শুধু ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব নয়। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থারও সমান দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান তথ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাজেট, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্বলতা সংশোধন এবং সাইবার আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিচালনা পর্ষদকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংককেও নির্দেশনা জারির পাশাপাশি বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই করতে হবে। নিয়মিত স্বাধীন নিরীক্ষা, আকস্মিক পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা মহড়ার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। গুরুতর দুর্বলতা পাওয়া গেলে তা সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে।

    একই সঙ্গে সাইবার হামলার ঘটনা গোপন রাখার প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি করা উচিত। এতে অন্য ব্যাংকগুলোও একই ধরনের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার সুযোগ পাবে।

    ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। কিন্তু নিরাপত্তাহীন ডিজিটাল সম্প্রসারণ শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিবর্তে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্যাংকের গ্রাহক যদি নিজের অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা হারান, তাহলে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো, জাতীয় নিরাপত্তা মহড়া, সাইবার ঘটনা প্রতিবেদন ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু গভর্নরের বক্তব্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি এবং জালিয়াতির বিপুল অনুদ্ধারকৃত অর্থ প্রমাণ করে যে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো অনেক পথ বাকি।

    বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সীমাকে শুধু আনুষ্ঠানিক নিয়ম পালনের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রতিটি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা, দক্ষ জনবল তৈরি, নিরাপত্তায় বিনিয়োগ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

    মনে রাখতে হবে, সাইবার নিরাপত্তা এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে অপরাধীরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলায়। তাই একবার নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। প্রয়োজন অবিরাম পরীক্ষা, হালনাগাদ প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা।

    হ্যাকারদের প্রতিটি আক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়তো সব সময় সম্ভব নয়; কিন্তু আক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করা, ক্ষতি সীমিত রাখা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে সেই সক্ষমতাই অর্জন করতে হবে। কারণ, ব্যাংকের নিরাপত্তা শুধু অর্থের নিরাপত্তা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের আর্থিক সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কোটি মানুষের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস রক্ষায় কাগুজে নিরাপত্তার পরিবর্তে বাস্তব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার এখনই সময়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক

    নভেম্বর 4, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ১৯৪৬ সালের পর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে?

    নভেম্বর 4, 2026
    আইন আদালত

    গাম্বিয়া বনাম মায়ানমার, ১৯ নভেম্বর রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়, আন্তর্জাতিক আইনের পরীক্ষা

    নভেম্বর 4, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.