প্রবাসী আয় সংগ্রহে নতুন চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও কৃষি ব্যাংক এখন দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক।
ইসলামী ও অগ্রণী ব্যাংক প্রবাসী আয় সংগ্রহে আগে থেকেই শক্ত অবস্থানে থাকলেও এবার কৃষি ব্যাংকের ফলাফল নজর কাড়েছে। করোনাকালেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং সেবার মান বৃদ্ধিই এই সাফল্যের পেছনে প্রধান কারণ। সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির লেনদেনও ব্যাংকটিকে বৈদেশিক মুদ্রা চাহিদা তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ১১ মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ হাজার ৬৩ কোটি ডলার। ইসলামী ব্যাংক এনেছে ৫৫৩ কোটি ডলার, কৃষি ব্যাংক ২৭৭ কোটি এবং অগ্রণী ব্যাংক ২৬৫ কোটি ডলার। এছাড়া জনতা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসী আয় সংগ্রহ করেছে।
কৃষি ব্যাংকের দেশের ১ হাজার ৩৮টি শাখা ও ৫টি উপশাখা দেশের অন্য কোনো ব্যাংকের তুলনায় বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরেই অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফএস) কৃষি ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রবাসী আয় বিতরণ করত। ২০১৮ সালে আলী হোসেন প্রধানিয়ার নেতৃত্বে ব্যাংকটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক কার্যকরভাবে কাজে লাগানো শুরু করে। বেসরকারি সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রবাসী আয় সংগ্রহ আরও সহজ হয়েছে।
করোনাকালের সময় সব শাখা খোলা রাখার ফলে ব্যাংকটি প্রবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ডলার সংকটের সময় সরকার কৃষি ব্যাংককে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার দায়িত্ব দিয়েছিল, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য একাধিক সঞ্চয় স্কিম চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২২০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষিঋণ থেকে লোকসান হলেও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসার মাধ্যমে লোকসান কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লোকসান ছিল ৬ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিকভাবে, কৃষি ব্যাংক মালয়েশিয়ার মার্চেন্ট্রেড, যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ ও রিয়া মানি, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যের এনইসি মানি, দক্ষিণ আফ্রিকার হোম রেমিটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবাসী আয় সংগ্রহ করছে।
কৃষি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ও হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত এক হাজারের বেশি শাখা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। গ্রাহকরা এখন সরাসরি নিজের হিসাবে টাকা জমা দিতে পারছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টায় সেবা পাচ্ছেন।”
তিনি আরো জানান, বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে চুক্তির ফলে সেবা আরও সহজ হয়েছে।

