আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য জোটগুলোর একটি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে জোটের সদস্য দেশ নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি-১৪) ফাঁকে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে। আজ সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জানায়, বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় তারা। পাশাপাশি বাণিজ্যনির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে কাজ চলছে।
আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির আগ্রহ তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি জোটটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আরসিইপিতে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে। এ বিষয়ে অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
একই বৈঠকে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেয়। উভয় দেশই মনে করছে, এমন চুক্তি হলে বাণিজ্য বাড়বে এবং বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। টড ম্যাকক্লে তা গ্রহণ করে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর আগে জানানো হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বাজার বহুমুখীকরণের কৌশল নিয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এদিকে একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। ইইউর পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। সেখানে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানায়, যাতে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখা যায়।
ইইউ বাংলাদেশের এ অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি শ্রম খাতে চলমান সংস্কারের অগ্রগতির প্রশংসা করে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়নের কথাও জানানো হয়।
বৈঠকগুলো শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

