দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে এই বাস্তবতায় স্থিতিশীলতা আনতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। এতে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের অর্থনীতি একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে পরিকল্পিত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।
তিনি অতীতের কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচনা করে বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার কারণে ঋণের চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান ঋণ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ প্রকল্প বেছে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
কর ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো করের বাইরে রয়ে গেছে। এ খাতকে করের আওতায় আনতে পারলে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই পথে এগিয়ে নিতে কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

