মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর সরাসরি চাপ পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভর্তুকির চাপ বাড়ছে:
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে এলএনজি আমদানির জন্য প্রায় ৪ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। এ অর্থ বরাদ্দের জন্য ইতোমধ্যে জ্বালানি বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকেই উচ্চ দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। ফলে ব্যয় দ্রুত বেড়ে গেছে।
স্পট মার্কেটে নির্ভরতা
চলতি এপ্রিল মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৮টিই স্পট মার্কেট থেকে কেনা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম গড়ে ২১ ডলার, যা যুদ্ধের আগে ১০-১১ ডলারের মধ্যে ছিল। কিছু ক্ষেত্রে দাম ২৮ ডলার ছাড়িয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভর্তুকি ছাড়া এলএনজি আমদানি সম্ভব নয়। সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে কতটুকু গ্যাস কেনা যাবে।
এপ্রিলের পর মে মাসে এলএনজির চাহিদা আরও বাড়তে পারে। প্রাথমিকভাবে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সময়ে কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে গ্যাসের ব্যবহারও বাড়বে, যা চাপ আরও বাড়াবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উচ্চ দামে কেনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে।
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। যদিও ভবিষ্যতে এই রুট খুলে দেওয়া হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে। কারণ, সংঘাতের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে পারে, যা দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো সীমিত আর্থিক সক্ষমতার দেশের জন্য এই চাপ মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশও একই ধরনের সংকটে পড়বে।
তার মতে, এ পরিস্থিতিতে সরকারের পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণই নির্ধারণ করবে সংকট কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

