ক্ষমতায় আসার পর মাত্র দেড় মাসেই ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক তিন মাসে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব সংকটের চাপকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এতে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা আগেই অতিক্রম করেছে ঋণের পরিমাণ। বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে ঋণ গ্রহণের গতি সবচেয়ে বেশি ছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া ভোগ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। তবে রাজস্ব কমলেও সরকারি ব্যয় কমেনি; বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভরতা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। তিনি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন, যাতে ঋণের চাপ কমানো যায়।
ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ঋণ পরিশোধও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
একইভাবে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট ইতোমধ্যে তীব্র হয়েছে। অনেক ব্যাংকে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি থাকায় নতুন ঋণ দেওয়া সীমিত হয়ে পড়েছে, ফলে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাচ্ছেন না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

