ঈশ্বরদী উপজেলার লিচুচাষিরা এবার বড় ধরনের বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও গাছে গাছে প্রচুর ফলন থাকায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত বছর ফলন কম হওয়ায় অনেক বাগান মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তবে এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন লাখের বেশি লিচুগাছে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। গাছভর্তি লিচু দেখে কৃষক, ব্যবসায়ী—সবার মধ্যেই আশাবাদ তৈরি হয়েছে। আর মাত্র এক মাস পরই বাজারে লিচু তোলার ধুম পড়বে।
চাষিরা বলছেন, বর্তমানে গরম ও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির মিশ্র আবহাওয়া লিচুর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে তাপমাত্রা আরও বেড়ে গেলে ফল ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখন পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। মোট বাগানের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি এবং গাছ রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার। প্রতিটি গাছে গড়ে কয়েক হাজার লিচু ধরেছে। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও ভিটা জমিতেও লিচুগাছের সংখ্যা বাড়ছে।
এলাকার ছলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি লিচুচাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সাহাপুর ও ছলিমপুরে বাগানের ঘনত্ব বেশি। এখানে প্রধানত মোজাফফর ও বোম্বাই জাতের লিচু চাষ করা হয়, যা বাজারে বেশ জনপ্রিয়।
বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল এবং সেগুলো এখন ফল হিসেবে পরিপক্ব হচ্ছে। অনেক চাষি নিজেই বাগান দেখভাল করে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার আগাম মুকুল দেখে বাগান বিক্রিও করেছেন।
স্থানীয় একাধিক বাগান মালিক জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মে মাসের শেষ কিংবা জুনের শুরুতেই লিচু তোলার উপযুক্ত সময় হবে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকেই কয়েকশ গাছ থেকে কয়েক লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো গুটি ধরে রাখা এবং সঠিক পরিচর্যা করা। এজন্য নিয়মিত পানি দেওয়া, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ জরুরি। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর শুধু কৃষকই নয়, পরিবহন, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতা—সবার জন্যই লিচুকে ঘিরে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে। ফলে ঈশ্বরদীর লিচু আবারও দেশের ফলবাজারে বড় অবদান রাখতে পারে।
সিভি/কেএইচ

