যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) এই শুল্ককে ‘জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্য আইনের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউএসটিআরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নও রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বেশিরভাগ পণ্যই নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এই তালিকার বাইরে থাকবে। এ ছাড়া কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য শর্তসাপেক্ষে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে।
জোরপূর্বক শ্রম বলতে কী বোঝায়?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণা, হুমকি বা জোর প্রয়োগের মাধ্যমে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ বা সেবা দিতে বাধ্য করা হলে সেটিকে জোরপূর্বক শ্রম বলা হয়।
আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হয়েছেন। এর বড় অংশই বেসরকারি খাতে সংঘটিত হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, এ ধরনের শ্রম ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের অবৈধ মুনাফা করে। বর্তমানে প্রায় ৬০টি দেশ আইএলওর জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী প্রোটোকল অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে।
কীভাবে এলো নতুন শুল্কের সিদ্ধান্ত?
আইএলওর শ্রমবিষয়ক প্রোটোকলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের বিভিন্ন বিধানের সামঞ্জস্য রয়েছে। এই আইনের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় গত মার্চে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ধারার মাধ্যমে মার্কিন সরকার অন্য দেশের বাণিজ্য নীতি ও কার্যক্রম অন্যায্য, বৈষম্যমূলক বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কি না তা যাচাই করতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দেশটি পাল্টা বাণিজ্য ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ পায়। সম্প্রতি তদন্ত শেষ হওয়ার পর শুক্রবার ইউএসটিআর তাদের ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০১ ধারার আওতায় আরোপ করা শুল্কের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই শুল্ক কতদিন কার্যকর থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার হওয়ায় নতুন এই শুল্ক দেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার ধরে রাখতে শ্রমমান ও উৎপাদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশ নিয়ে ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পেছনে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। গত মার্চে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল সংস্থাটি। এই তদন্তের লক্ষ্য ছিল—পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার থাকলে তা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নীতির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা।
তদন্ত শেষে ইউএসটিআর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে আলাদা একটি অংশ রাখা হয়েছে। সেখানে ‘বাংলাদেশ: ডিটারমিনেশন অব অ্যাকশন ইন ইনভেস্টিগেশন’ শিরোনামে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি ও বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বাংলাদেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর পর্যাপ্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারেনি। এ কারণেই বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, জনসাধারণের মতামত, সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শ, উপদেষ্টা সংস্থাগুলোর সুপারিশ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কিছু পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
ইউএসটিআরের প্রতিবেদনের সংযুক্ত তালিকায় প্রায় ৮৫ ধরনের পণ্যের উল্লেখ রয়েছে, যেগুলো নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু শুকনো লতাগুল্ম ও উদ্ভিজ্জ উপাদান, ইসবগুলের ভুসি, কিছু ভেষজ নির্যাস, বাঁশজাত পণ্য, ক্যাস্টর অয়েল, নির্দিষ্ট ধরনের সেগুন ও মেহগনি কাঠের তৈরি পণ্য। পাশাপাশি কিছু সিল্ক কাপড় ও রত্নপাথরও শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকবে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পোশাক খাতে:
নতুন শুল্কের প্রভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার। তবে ইউএসটিআর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাক শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিতে ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সুবিধা নির্ভর করবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কত পরিমাণ তুলা ও টেক্সটাইল কাঁচামাল আমদানি করছে তার ওপর। ইউএসটিআরের মতে, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো—জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকি রয়েছে এমন উৎস থেকে কাঁচামালের নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহিত করা। তবে টিআরকিউ ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াকে এই কোটা সুবিধা পাওয়ার সম্ভাব্য দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউএসটিআর।
প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর কত শুল্ক?
যুক্তরাষ্ট্র দেশভেদে দুটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে শুল্কের হার নির্ধারণ করেছে। যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও এই ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়বে।
অন্যদিকে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, তাদের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনাম রয়েছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের পণ্যের ওপরও একই হারে শুল্ক কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য নতুন শুল্ক একদিকে যেমন রপ্তানি ব্যয়ের চাপ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে শ্রমমান, উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কাঁচামাল ব্যবস্থাপনায় নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া: প্রতিযোগিতায় সুবিধা দেখছে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ সরকার এটিকে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচকভাবে দেখছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ শতাংশ শুল্কের হার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ওপর কম হারে শুল্ক আরোপ হওয়ায় মার্কিন বাজারে দেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। কারণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে তুলনামূলক বেশি শুল্কের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এদিকে সিলেটে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, নতুন করে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়নি। তার ভাষ্য, আগে ঘোষিত ১৫০ দিনের ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই হারের শুল্ক ভিন্ন নামে আবার কার্যকর করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, এটি মূলত আগের শুল্ক ব্যবস্থারই প্রতিস্থাপন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের লাভ কতটা?
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর আমদানিকৃত পণ্যের ওপর একতরফাভাবে পারস্পরিক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেন। তবে এ নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তার প্রশাসন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত শুল্কের বড় একটি অংশ বাতিল করে। এরপর হোয়াইট হাউস সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক চালু করে। শুক্রবার সেই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়।
তবে শুল্ক থেকে রাজস্ব আদায়ের ধারা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন পুরোনো একটি বাণিজ্য আইনের ব্যবহার শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে এবার জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুকে ভিত্তি করে নতুন শুল্ক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক শুধু শ্রম অধিকার ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন পারস্পরিক শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থের মধ্যে ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে।
শুরুতে পাল্টা শুল্ক থেকে পাওয়া আয় যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমাতে সহায়তা করলেও পরে ঘাটতির চাপ আবার বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশটির বাজেট ঘাটতি ২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নতুন শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে সেই ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি বাণিজ্যিক হিসাব নয়, এটি রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। শ্রম অধিকার, উৎপাদনের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে না পারলে আগামী দিনে শুধু শুল্ক সুবিধা কোনো দেশের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে পারবে না। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ এই সংকেত কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।

