চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ডাকা কর্মবিরতি আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ষষ্ঠ দিনে গড়াল। টানা কর্মবিরতিতে বন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দরে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন।
আজ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ১১ হাজারের বেশি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার আটকে গেছে। বন্দর অচল থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সংকট নিরসনের আশায় সকাল ১০টায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বন্দর ভবনে। তবে আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি।
বৈঠক শেষে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাদা কোনো আলোচনা ছাড়াই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপদেষ্টা বন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। এ সময় শ্রমিকরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড গো ব্যাক’ এবং ‘মা, মাটি, বন্দর বিদেশিদের দেবো না’ স্লোগানে বন্দর এলাকা মুখর করে তোলেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, উপদেষ্টা শ্রমিক নেতাদের বোট ক্লাবে এসে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের অবস্থান ছিল, বন্দরের সমস্যা বন্দরের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও জানান, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা ছাড়াই উপদেষ্টা চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বন্দর ভবনে ঢুকে বিক্ষোভ করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে বন্দর ভবনে ঢোকার সময় শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। প্রায় ২০ মিনিট তাকে আটকে রেখে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেল সাড়ে ৩টায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছে।
আজ সকাল থেকেই বন্দরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বন্দরের সব গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো শ্রমিককে টার্মিনালে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সব ধরনের কার্যক্রম এখনও বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। দাবির বিষয়ে সরকার কোনো সাড়া না দিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিতে থাকে। একই সঙ্গে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বদলি করা হয়।
এর প্রতিবাদে তিন দিন পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানে তারা আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সংহতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কর্মবিরতির বিকল্প কোনো পথ খোঁজার অনুরোধ জানান। তবে শ্রমিক নেতারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

