টানা দুই দফা দাম কমার পর দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো স্বর্ণের মূল্য। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে এই সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী—
-
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা
-
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা
বাজুস স্পষ্ট করেছে, এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।
অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে দাম।
স্বর্ণের বাজারে দফায় দফায় পরিবর্তন এলেও রুপার বাজারে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে অন্যান্য রুপার দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১৮ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে।
গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, ডলারের দর ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবে স্বর্ণের দামে এই রেকর্ড ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
ফলে বিয়ের মৌসুম বা সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এখন স্বর্ণ কেনার আগে হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

