রমজান শুরু হলেই নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রমজানের শুরুতেই বেগুনের দাম লাফিয়ে ওঠে। এক কেজি বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে শুরু করে।
গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) আট রমজান পার হলেও বেগুনের দাম তেমন কমেনি। এখনো বাজারভেদে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু বেগুন নয়, রমজানের বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় পণ্যই এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাইব্রিড শসা ও ক্ষীরার কেজি ১০০ টাকা, দেশি শসা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম আরও বেশি—১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।
টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। লেবুর দাম রমজানের শুরুতে দ্বিগুণ হয়ে যায়। আট দিন পার হলেও লেবুর হালি এখনো ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে নামেনি।
বাজারে লেবু, বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, খেজুর, ছোলা, ডাবলি ও চিনির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম সেভাবে কমেনি।
এবার দেশে ফল আমদানি বেশি হলেও রমজানের শুরুতে সব ধরনের ফলের দাম বেড়ে যায়। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু ফলের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
রমজানের শুরুতে আপেলের কেজি ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, মালটা ৩৪০, কমলা ৩৪০ থেকে ৩৫০, সবুজ আঙুর ৪২০ ও কালো আঙুর ৬০০ টাকা। এখন এসব ফলের দাম কিছুটা কমেছে।
রাজধানীর টাউন হল বাজারের আফজাল ফল বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. আফজাল বলেন, “রমজানে ফলের চাহিদা বেশি থাকে। খেজুরের দাম কমেনি, তবে অন্য কিছু ফল ৩০ থেকে ৫০ টাকা কম দামে বিক্রি করছি।”
রমজানে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পণ্য খেজুরের দামে তেমন পরিবর্তন নেই।
-
জাহিদি খেজুর: ২৬০ টাকা কেজি
-
বরই খেজুর: ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা
-
দাবাস: ৬০০ টাকা
-
সুক্কারি: ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা
-
মরিয়ম: ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকা
-
আজোয়া: ১,২০০ টাকা
-
মেডজুল: ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা
রমজান শুরুর সময় ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তবে এখন ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে।
বর্তমানে ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, “রমজানের শুরুতে চাহিদা বেশি ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। তাই দামও কমেছে।”
তবে গরু ও খাসির মাংস আগের মতোই ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কমে ডজন ১০৫ টাকায় নেমেছে।
অন্যদিকে মাছের বাজার এখনো চড়া।
-
রুই ও কাতল: ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি
-
কাজলি, ট্যাংরা ও নদীর মাছ: ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা
-
তেলাপিয়া: ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা
-
পাঙাশ: ২৩০ টাকা
রমজানে পেঁয়াজের ব্যবহার বাড়লেও এবার মৌসুম চলায় দাম কমেছে। আগের তুলনায় ২০ টাকা কমে পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আলু ২০ টাকা কেজি।
আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ২১০ থেকে ২৩০ এবং দেশি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটার, চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। মিনিকেট ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
আট রমজান পার হলেও অনেক পণ্যের দাম কমেনি। যেভাবে দ্রুত দাম বাড়ে, সেভাবে কমে না—এ অভিযোগ ক্রেতাদের।
সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারে উচ্চমূল্য বজায় থাকা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। রমজানের বাকি দিনগুলোতে বাজারে স্বস্তি ফিরবে কি না—এটাই এখন সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন।

