দেশজুড়ে গৃহকর্মীদের একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকোর্ট। রাজধানীসহ সারা দেশে গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না—এই প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
রোববার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আইন সচিব, শ্রম সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা। এর আগে তিনিই গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গৃহকর্মীদের কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ বা নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একটি বাধ্যতামূলক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হলে কর্মীদের পরিচয় নিশ্চিত করা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আইনি সুরক্ষা জোরদার করা সহজ হবে।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গৃহকর্মী খাতে শৃঙ্খলা আসবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ হবে। একই সঙ্গে অপরাধ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে। এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সরকারের অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি কতটা এগোয়।

