ঢাকার আকাশজুড়ে এখন ঘন ধুলা আর বিষাক্ত কণার স্তর। শহরের চারপাশের নদীগুলো বহু আগেই শিল্পবর্জ্যের কারণে কালচে রঙ ধারণ করেছে। বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার, পুরো শহরজুড়ে শব্দদূষণের অসহনীয় চাপ এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম—সব মিলিয়ে এটি এখন রাজধানীর নিত্যদিনের চিত্র।
এই বহুমাত্রিক দূষণের মধ্যে দেশের লাখো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকলেও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ আদালতে মামলার সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে কম। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় বিচারিক এই ব্যবস্থাটি কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বিশ্বের পরিবেশগত অবস্থার মূল্যায়নকারী বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত কর্মক্ষমতা সূচক ২০২৪ অনুযায়ী, পরিবেশ সুরক্ষায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫তম।
পরিবেশ দূষণের এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—আইন ও বিচার কাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন পরিবেশ সুরক্ষায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ আদালতের সীমিত ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ব্যাপক দূষণ, কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় নীরবতা:
পরিবেশবাদীদের মতে, দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে কোনো না কোনো ধরনের পরিবেশগত অপরাধ নিয়মিতভাবে ঘটছে। নদী দখল ও দূষণ, শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলা, ইটভাটার কালো ধোঁয়া, পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাট, অবৈধ পলিথিন ব্যবহার, নির্মাণকাজ থেকে উড়ে আসা ধুলা এবং যানবাহনের ধোঁয়া—সব মিলিয়ে পরিবেশের ওপর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে কিন্তু এই বাস্তবতার সঙ্গে পরিবেশ আদালতের পরিসংখ্যানের বড় ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার মূল পরিবেশ আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মোট মামলার সংখ্যা ৮ হাজার ২৩১টি। এর মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় দায়ের করা মামলার সংখ্যা মাত্র ১৩২টি। অর্থাৎ মোট বিচারাধীন মামলার প্রায় ৯৮ শতাংশই অন্যান্য আইনের অধীন।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের হার খুবই কম। ২০২৪ সালে ঢাকার পরিবেশ আদালতে এ আইনে মাত্র ২টি মামলা পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩টিতে। পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় ২৩ বছরে মোট মামলা হয়েছে ৫৯২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৭৬টি মামলা। এই পরিসংখ্যানের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে—একদিকে যখন পরিবেশগত অপরাধ বাড়ছে, অন্যদিকে তখন কেন পরিবেশ আদালতে মামলার সংখ্যা এত সীমিত থেকে যাচ্ছে।|
পরিবেশ আদালতে মামলা না যাওয়ার কারণ কী?
পরিবেশ আদালতে পরিবেশ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কেন কম—এ প্রশ্নে আইন বিশেষজ্ঞরা মূল কারণ হিসেবে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে সামনে আনছেন।
তাদের মতে, পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সরাসরি পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন না। এর আগে অভিযোগ জানাতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে। অধিদপ্তরের তদন্ত, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ছাড়া আদালতে মামলা গ্রহণের সুযোগ থাকে না।
এই প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ নাগরিকের জন্য বিচারপ্রাপ্তির পথ দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়ে। অনেক অভিযোগকারীই সময়ক্ষেপণ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ধাপে ধাপে অনুমোদনের বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে এগোতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, পরিবেশ দূষণের শিকার ব্যক্তি সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারায় অনেক পরিবেশগত অপরাধই কার্যত বিচার ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের আধিক্যে হ্রাস পাচ্ছে নিয়মিত মামলা:
পরিবেশ আইন প্রয়োগে বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর মূলত ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর নির্ভর করছে। অবৈধ ইটভাটা, কালো ধোঁয়া নির্গমন, শব্দদূষণ, পলিথিনের অবৈধ ব্যবহার, পাহাড় কাটা কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মতো অভিযোগে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে এসব অভিযানের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাস্তি হিসেবে আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। পরিবেশ আদালতের নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর চিত্রেও একই ধারা দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসামিদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর কারাদণ্ডের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিক জরিমানা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত অপরাধ দমনে নিয়মিত বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। তাদের ভাষায়, আদালতের রায় ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে এবং অপরাধীদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক প্রভাব সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতের চিত্রও প্রায় একই রকম। বর্তমানে সেখানে পরিবেশ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা মাত্র সাতটি। একই আদালতে অন্যান্য মামলার সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরে আপিল আদালতে পরিবেশ সংক্রান্ত নতুন মামলা এসেছে মাত্র পাঁচটি। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল আটটি। তবে আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন কোনো পরিবেশ মামলা দীর্ঘদিন আটকে নেই। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো মামলা ঝুলে থাকার নজির নেই।
চট্টগ্রাম আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা:
চট্টগ্রামের পরিবেশ আদালতের চিত্রেও দীর্ঘসূত্রতার বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জানা যায়, দেশের অন্যতম পরিবেশ আদালত চট্টগ্রামে বর্তমানে পরিবেশ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৪টি। এর মধ্যে ২৮টি মামলা পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, শুধু মামলার সংখ্যা নয়, বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত আদালত কাঠামো এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি পরিবেশ আদালতের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে কার্যকর পরিবেশ আদালত রয়েছে মাত্র তিনটি—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। পাশাপাশি ঢাকায় একটি পরিবেশ আপিল আদালতও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জনসংখ্যার দিক থেকে প্রায় ১৮ কোটির দেশে এই সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করেন আইনজ্ঞ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অন্তত প্রতিটি জেলায় একটি করে পরিবেশ আদালত থাকা প্রয়োজন ছিল। কারণ পরিবেশগত অপরাধ এখন শুধু বড় শহরে সীমাবদ্ধ নেই; জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দূষণ ও পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে।
এ অবস্থায় নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন আইনজীবীরা। তাদের ভাষায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের একক উদ্যোগে দেশের সব ধরনের পরিবেশগত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তাই সাধারণ নাগরিক, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তাদের মতে, যত বেশি মানুষ পরিবেশগত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে, ততই শক্তিশালী হবে পরিবেশ সুরক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থা। তবে বর্তমান আইনি কাঠামো সেই সুযোগকে সীমিত করে রেখেছে।
পরিবেশ আদালত কার্যকর করতে আইনি সংস্কার প্রয়োজন:
পরিবেশ আদালতকে কার্যকর করতে আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন আইনজীবীরা। তাদের মতে, বিদ্যমান কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবেশগত বিচারপ্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে জনগণের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠছে না।
ঢাকা মহানগর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, পরিবেশ দূষণ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ রক্ষার জন্য যে বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তা এখনো সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি সহজলভ্য নয়। তার মতে, বিদ্যমান পরিবেশ আদালত আইনে সাধারণ মানুষ সরাসরি মামলা করতে না পারায় অনেক পরিবেশগত অপরাধ বিচারিক প্রক্রিয়ায় পৌঁছায় না।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি শিল্পকারখানার বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হন, কিংবা নদী, খাল বা জলাশয় অবৈধ দখল বা দূষণের শিকার হতে দেখেন, তবুও তিনি সরাসরি আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন না। তাকে আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে বিচারপ্রাপ্তির পথ দীর্ঘ হয় এবং অনেক ভুক্তভোগী হতাশ হয়ে আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে যান।
মাহিয়া বিনতে মাহাবুবের মতে, দেশের তুলনায় পরিবেশ আদালতের সংখ্যাও অত্যন্ত সীমিত। ঢাকার বাইরে অনেক মানুষকে দূরবর্তী আদালতের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা সময় ও ব্যয়ের কারণে বাস্তবসম্মত নয়। ফলে পরিবেশগত অন্যায়ের শিকার হয়েও অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হন না।
তিনি বলেন, পরিবেশ আদালতকে আরও কার্যকর করতে হলে আইনে জনস্বার্থে মামলা করার সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবেশবাদী সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সরাসরি মামলা করার অধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিভাগ বা জেলায় পর্যায়ক্রমে পরিবেশ আদালত স্থাপন, বিশেষায়িত বিচারক নিয়োগ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, পরিবেশের ক্ষতি শুধু প্রকৃতির ক্ষতি নয়, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের সঙ্গেও জড়িত। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে শুধু প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে নয়, বরং সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, কার্যকর আইন, শক্তিশালী আদালত এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সমন্বয়েই পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও বহুমাত্রিক। জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক দূষণ, ই-বর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য, শিল্পদূষণ এবং দ্রুত নগরায়ণের চাপ—সব মিলিয়ে বিদ্যমান পরিবেশ আইনকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ আদালত কার্যকর করতে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন তারা।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র ক্যাপস-এর চেয়ারম্যান এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, দেশে পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলেও এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি হয়নি। তার মতে, এই সচেতনতার অভাবে গত ১০ থেকে ১২ বছরে পরিবেশ আদালতে মামলার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত থেকে গেছে। পরিবেশগত ক্ষতির শিকার অনেক মানুষই জানেন না, কীভাবে এ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ আদালতের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো—ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরাসরি মামলা করতে পারেন না। মামলা করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তার মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত একটি প্রশাসনিক ধাপ যুক্ত হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অধ্যাপক মজুমদার পরিবেশ আদালতের কার্যকারিতায় আরেকটি বড় ঘাটতি হিসেবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর অভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, পরিবেশ আইন বিষয়ে পর্যাপ্ত বিশেষায়িত সহায়তা না থাকায় অনেক জটিল মামলা আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি প্রমাণ সংগ্রহকেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ বা বর্জ্য পোড়ানোর মতো অপরাধ অনেক সময়ই স্বল্পস্থায়ী হয়। ফলে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দূষণের আলামত নষ্ট হয়ে যায়। এতে অপরাধ প্রমাণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জটিল হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন। তার মতে, পরিবেশ আদালতে মামলার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং গণবিজ্ঞপ্তি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আদালতের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে বিসিএস পর্যায়ে পরিবেশ ক্যাডার চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। প্রতিটি উপজেলায় একজন করে পরিবেশ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত অপরাধ শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং প্রমাণ সংগ্রহ অনেক সহজ হবে।
অধ্যাপক মজুমদার শেষ পর্যন্ত মনে করেন, পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয়। শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ বা নগর উন্নয়ন—যে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেই সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। তার মতে, সমন্বিত ও আন্তঃমন্ত্রণালয় উদ্যোগ ছাড়া টেকসই পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
পরিবেশ আদালত সংস্কারের প্রতীক্ষায়:

