বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশানে ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার হাওলাদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর নজরুল ইসলাম মজুমদারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম ১৮ আগস্ট তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আদালতে হাজির করা হয়।
গুলির নির্দেশ ও অর্থসহায়তার অভিযোগ
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ভুক্তভোগী জব্বার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং এ ঘটনায় আসামিদের আর্থিক সহায়তা করার বিষয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য শুনে আদালত নজরুল ইসলাম মজুমদারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন ভ্যানচালক জব্বার
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশানের শাহাজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলন চলছিল। ওই সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনকে আসামি করা হয়।
মামলাটিতে এখন নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে গুলির নির্দেশ দেওয়া এবং আর্থিক সহায়তার অভিযোগ তদন্তের আওতায় এসেছে। আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
আগে থেকেই কারাগারে নজরুল
নজরুল ইসলাম মজুমদার নতুন করে গ্রেপ্তার হননি। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এই মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্তের পরিধি আরও বাড়ল।

