সরকারি বাড়ি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা পনেরোটি দুর্নীতির মামলা থেকে একই দিনে খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। দরপত্রে অনিয়ম করে আঠারোটি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় সোয়া একশ কোটি টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এই মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করেন ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার।
আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং ফাঁসানোর লক্ষ্যেই মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। আদালত আজ তাঁকেসহ অন্য সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ একুশ জনের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদাভাবে পনেরোটি মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিটি মামলায় মির্জা আব্বাসসহ বারোজনকে আসামি করা হয়েছিল।
এই মামলাগুলোতে মির্জা আব্বাস ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন সাবেক আমলা ও ব্যবসায়ী আসামি হিসেবে ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজনকে দুটি করে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল। রায়ে তাঁরা প্রত্যেকেই খালাস পেয়েছেন।
২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এসব মামলা দায়ের করে দুদক, এবং একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগর এলাকায় থাকা আঠারোটি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির প্রক্রিয়ায় দরপত্রে কারচুপি ও অনিয়ম করা হয়েছিল। রাজউকের মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজানো হয় যাতে পছন্দের নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই এসব বাড়ি পেয়ে যান, যার ফলে সরকারের প্রায় সোয়া একশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় বলে দুদকের অভিযোগে বলা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এসব সরকারি বাড়ি বিক্রির অনুমোদন দেন। অভিযোগে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি মূল্যের প্রস্তাব উপেক্ষা করে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যে বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচার চলাকালে মোট চব্বিশজন সাক্ষীর মধ্যে তেইশজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত, এরপর শুনানি শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হয়।

