রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারি মামলায় বুধবার নির্ধারিত দিনেও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। দুদকের করা এই মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে গেছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আগামী ৪ অক্টোবর।
এদিকে বুধবার দুপুরে আদালতে একটি ভিন্ন দৃশ্যের অবতারণা হয়। বেলা সাড়ে বারোটার দিকে আদালতকক্ষে ঢুকে দেখা যায়, আসামি সাহেদ তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে বসে একসঙ্গে বিরিয়ানি খাচ্ছেন। এ সময় বিচারক এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আদালতের পেশকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাহেদের আইনজীবী বিচারকের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই এই ব্যবস্থা করেছিলেন। খাওয়াদাওয়া শেষে পৌনে একটার দিকে সাহেদকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে হাজতখানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দুদকের একজন উপপরিচালক এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পরের বছর সেপ্টেম্বরে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে সরাসরি মামলায় আসামি করা না হলেও তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে রূপান্তরিত করেন এবং সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারে প্রায় চার হাজার করোনা রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। অথচ ওই হাসপাতালে রোগীপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা করে মোট প্রায় এক কোটি আটত্রিশ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন শাখার কর্মীদের মাসিক খাবার খরচ বাবদ প্রায় দুই কোটি টাকার একটি চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের জুনে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত মোট তেরো জন সাক্ষীর মধ্যে বারো জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে, সর্বশেষ সাক্ষ্য নেওয়া হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে।
বুধবার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিনে সংশ্লিষ্ট সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় দুদকের পক্ষে দায়িত্বরত আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেন। এদিন কারাগার থেকে আসামি সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়, পাশাপাশি জামিনে থাকা বাকি পাঁচ আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক এক পরিচালক, একজন উপপরিচালক, একজন সহকারী পরিচালক এবং একজন গবেষণা কর্মকর্তা।

