বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফেলা প্লাস্টিকসহ সব ধরনের বর্জ্য ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চরের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে এসব বর্জ্য সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পর চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।
আদালত নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বলেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারকেও নির্দেশনার আওতায় রাখা হয়েছে।
রিট আবেদনটি করেছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। দ্য ডেইলি স্টারে গত ১৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩০ আগস্ট সংগঠনটির পক্ষে মোহাম্মদ সরওয়ার আহাদ চৌধুরী আবেদনটি করেন।
ওই প্রতিবেদনে ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে শত শত প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা পড়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অথচ নদীদূষণ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট ২০১০ সালে একটি রায়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২০১০ সালের ওই রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে নদীর দূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রিটে বলা হয়, হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে নিয়মিতভাবে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য একপর্যায়ে নদীতে গিয়ে পড়লে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ আরও বাড়তে পারে। এতে নদীদূষণ রোধে আদালতের আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, বুড়িগঙ্গার দূষণ ঢাকার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আগের আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত নদীতে গিয়ে পড়লে দূষণ আরও বাড়তে পারে।
হাইকোর্টের নতুন নির্দেশনার ফলে ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি তা পুনরায় নদীর তীরে ফেলা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতেও বলা হয়েছে।

