বালু ফেলে নদী ভরাটের অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় বালু পরিবহনের কাজে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং আরেকজনকে দেওয়া হয়েছে এক বছরের কারাদণ্ড।
বুধবার ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের একজন বেঞ্চ সহকারী রায়ের বিস্তারিত নিশ্চিত করে জানান, তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও ত্রিশ দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি দুজনকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে পনেরো দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামিদের কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দুই ম্যানেজারের একজন কর্মসূত্রে বাইরে থাকার কারণে এবং অন্যজন অসুস্থতার কারণে হাজির হতে পারেননি বলে জানানো হয়। অপর একজন আসামির বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেন। চতুর্থ আসামির পক্ষে কোনো ধরনের আবেদনই জমা পড়েনি। অনুপস্থিত থাকায় চার আসামির জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঢাকার চারপাশ ঘিরে থাকা কয়েকটি নদী দখল, দূষণ ও মৃতপ্রায় অবস্থার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসন, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নদী দূষণ ও দখলরোধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশনার আলোকেই বিভিন্ন সময়ে নদীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছিল।
এই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের অক্টোবরে টঙ্গী নদীবন্দরের আওতাধীন একটি এলাকায় বালু নদী পরিদর্শনে যান পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সাড়ে বারো হাজার বর্গফুট নদীর তীরভূমি ও নদীগর্ভ বালু দিয়ে ভরাট করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হন, অভিযুক্তরাই এই ভরাটের সঙ্গে জড়িত।
এই ঘটনার ভিত্তিতে টঙ্গী নদীবন্দরের একজন সহকারী পরিচালক সেদিনই সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট থানার একজন উপপরিদর্শক ২০২২ সালের মে মাসে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ২০২৩ সালের আগস্টে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত মোট আট সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর বুধবার এই সাজার রায় ঘোষণা করা হয়।

