বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাত বছরের শিশু মুসলিমাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মুসলিমা কচুড়িয়া গ্রামের ইসলাম শেখের মেয়ে। শনিবার বিকেলে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে খেলতে বাড়ি থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন।
খোঁজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা একটি পানের বরজ ও মাছের ঘেরের মাঝের জায়গা থেকে মুসলিমার মরদেহ উদ্ধার করেন। একটি বস্তার ভেতর মরদেহটি রাখা ছিল। পরে জানা যায়, তার গলা কাটা ছিল।
পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, মুসলিমাকে খোঁজার সময় জাহাঙ্গীরের বাড়ি ও পানের বরজে যেতে বাধা দেওয়া হয়। পরে জাহাঙ্গীর ও তাঁর দুই ছেলে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহাঙ্গীর শেখ, তাঁর দুই ছেলে রমজান শেখ ও আব্দুর রহমান। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
মুসলিমার বাবা ইসলাম শেখের দাবি, বাড়ি নির্মাণের সময় রমজান তাঁর কাছে টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। মুসলিমার কানে থাকা এক জোড়া সোনার দুলও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
মুসলিমার মা লাইলি বেগমের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী মেয়েটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কিছু জানতেন। তাঁদের কথাবার্তায় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সন্দেহ তৈরি হয়।
এ ঘটনায় মুসলিমার বাবা বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

