হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গালাগাল, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার ২ অক্টোবর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সজীব বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রলি সংকট নিয়ে উত্তেজনা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকায় আসে। ফ্লাইটটির নম্বর বিজি ৩৩৮। পরে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বাড়ে।
এ সময় পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকায় যাত্রীরা লাগেজ নিতে দেরির মুখে পড়েন। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, তখন আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যান। তিনি তাকে গালাগাল করেন এবং মারধর ও বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও তিনি অশালীন মন্তব্য করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন।
সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও করতে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও যেসব অভিযোগ
মামলায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের জন্য রাখা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এতে বোতলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ মামলার এজাহারে করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত হবে।

