ঢাকার আদালত থেকে আবারও পালিয়ে গেছেন হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম। এর আগে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালানোর ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই মামলার হাজিরায় তাঁকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হলে তিনি আদালতকক্ষ থেকে পালিয়ে যান। অর্থাৎ পালানোর মামলায় হাজিরা দিতে এসেই তিনি ফের পালালেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরিফুল কৌশলে আদালতকক্ষ থেকে পালিয়ে যান। তাঁর ভাষ্য, কোতোয়ালী থানার মামলায় শরিফুলকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আদালতকক্ষে থাকা অবস্থায় তিনি কৌশলে হাতকড়া খুলে পালান।
আদালত সূত্র জানায়, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে এদিন মামলাটির শুনানি ছিল। আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল আব্দুল আলিম। ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তদন্ত হবে এবং এ নিয়ে মামলাও করা হবে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে। তাঁর বাবার নাম শফিক আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছিল, মামলাটি ২০১৮ সালে হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে কারাগারে ছিলেন।
এটি শরিফুলের প্রথম পলায়ন নয়। ২০২৫ সালের ১৯ জুন খিলগাঁও থানার হত্যা মামলার হাজিরায় তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি এক পুলিশ সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। সেই ঘটনার জের ধরেই কোতোয়ালী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে পালানোর মামলা হয়। এর আগের পলায়নের পর তিনি আবার ধরা পড়েছিলেন এবং কারাগারে ফিরেছিলেন বলেই বোঝা যায়, কারণ এবার তাঁকে কারাগার থেকেই আদালতে আনা হয়েছিল।
একজন হত্যা মামলার আসামি, যিনি আগেও আদালত থেকে পালিয়েছেন, তিনি আবারও একই কায়দায় পালিয়ে যেতে পারলেন। এতে আদালতে আসামি আনা-নেওয়া ও হাজিরার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আগে একবার পালানোর রেকর্ড থাকা আসামির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা থাকা উচিত ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাতকড়া কীভাবে খোলা সম্ভব হলো এবং নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা যায়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ আসামিদের ক্ষেত্রে হাজিরার সময় একাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন, আদালতকক্ষ ও প্রবেশপথে কড়া নজরদারি এবং প্রয়োজনে ভার্চুয়াল হাজিরার ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না গেলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার এবং হত্যা মামলার ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

